মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৯:০৯ পিএম
মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সামনে থেকে তোলা। প্রবা ফটো
সামান্য বৃষ্টিতেই কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ চত্বর পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ কলেজের সার্বিক কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বলার পরও গত কয়েক বছরে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের মাঠে জলাবদ্ধতা। কলেজের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কলেজের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া অন্য নিয়মিত কাজ বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, বৃষ্টি হলে শহরের পুরাতন কোর্ট রোডের পুরো এলাকা জলাশয় আর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নালার পানিসহ পুরাতন কোর্ট রোডের পানি কলেজের ভেতর প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। জলাবদ্ধতায় কলেজের মূল ফটকসহ পুরো কলেজ এলাকা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে করে কলেজের ১২ হাজার শিক্ষার্থীসহ আশপাশ এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষসহ এলাকাবাসী বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও সুফল মেলেনি। কলেজ কম্পাউন্ডে নির্মিত ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেলের নিচতলায় পানি জমে যাওয়ায় হোস্টেলের টয়লেট ও আবাস কক্ষ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে আবাসিক ছাত্রীরা কক্ষ ছেড়েছেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক বছর আগে কলেজ ক্যাম্পাসের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য কলেজ চত্বরে পৌরসভার অর্থায়নে একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কলেজের সামনের রাস্তায় নির্মিত ড্রেন অপেক্ষা এই ড্রেন অনেক নিচু হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন হয় না। উল্টো রাস্তার ড্রেনের পানি কলেজ চত্বরে প্রবেশ করে। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জেলা শহরের একমাত্র সরকারি মহিলা কলেজের এই দুর্দশা দীর্ঘদিনের। বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলেই আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আবাসিক হোস্টেলের ১ হাজার ২০০ ছাত্রী নিয়েও আমরা চিন্তায় আছি। বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তারা পরিচ্ছন্ন কর্মী পাঠিয়ে মাঠের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা ছাড়া মূল সমস্যা সমাধানে কিছুই করছেন না। পুরাতন কোর্ট রোড সড়কের মূল ড্রেনটি সংস্কার ও চলমান করা ছাড়া সমাধানের আর কোনো বিকল্প নেই।’
কলেজের উপাধ্যক্ষ ফজলুল হক সাগর বলেন, ‘একটি সরকারি কলেজে কয়েক বছর ধরে সমস্যা থাকবে অথচ সমস্যার সমাধান হবে না, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করি। বলতে বলতে এখন লজ্জা লাগে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লজ্জা পায় না। তারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন।’
এলাকার বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মী মারুফ আহমেদ বলেন, ‘তাদের বাসার সামনের মূল সড়কেও হাঁটুপানি জমে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে কয়েক বছর ধরে কলেজসহ পুরো এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে থাকে। মনে হয় আমরা এক অভিভাবকহীন শহরের বাসিন্দা।’
পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, ‘পুরাতন কোর্ট চত্বরের পেছন অংশ দিয়ে বহু আগেই পানি নিষ্কাশনের একটি বড় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওইসব এলাকার কিছু মানুষ তাদের ব্যক্তিগত ভূমিতে নির্মিত ড্রেন ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করে ফেলেছে। পৌর আইনে ড্রেন তৈরির জন্য কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করার সুযোগ নেই। জমির মালিকরা যদি স্বেচ্ছায় জমি দান না করেন, তাহলে পৌরসভার পক্ষে এই জলাবদ্ধাতার স্থায়ী সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। তারপরও ভূমিমালিকদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি আতিয়া রহমান বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্য সব সময় শুনে আসছি। কিন্তু কার্যত তারা কোনো কাজই করে না। যা শহরবাসীর জন্য খুবই দুঃখজনক।’