ঝালকাঠি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১১:২৪ এএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১২:২৯ পিএম
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে দুর্ঘটনার শিকার সাগর নন্দিনী-২ জাহাজে আগুন নিয়ন্ত্রণে। সংগৃহীত ফটো
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে দুর্ঘটনার শিকার জাহাজ সাগর নন্দিনী-২ থেকে তেল অপসারণের সময় দ্বিতীয়বারের মতো বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়া আগুন প্রায় ১১ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার (৪ জুলাই) ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। বিস্ফোরণের পর সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুগন্ধা নদীসংলগ্ন ঝালকাঠি শহরের মিনি পার্কে সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘জাহাজ থেকে তেল অপসারণের জন্য সাগর নন্দিনী-৪ নামের আরেকটি জাহাজ আনা হয়েছিল। সেটিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে নন্দিনী-৪ জাহাজের আগুন নিভিয়ে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে নন্দিনী ২-এর আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলে।’
দ্বিতীয়বার কেন বিস্ফোরণ ঘটল-- এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা, জাহাজের স্টাফদের অসতর্কতার কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তা ছাড়া জাহাজটির ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমও দুর্বল ছিল। আমরা পানি মিশ্রিত ফোম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করি। যে পরিমাণ ফোম ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে জাহাজটি এখন ঝুঁকিমুক্ত বলা যায়।’
ঝালকাঠির পদ্মা ডিপোতে শনিবার দুপুরে প্রথম পদ্মা অয়েল কোম্পানির মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নিখোঁজ হন চারজন। এর মধ্যে রবিবার জাহাজের ইঞ্জিন রুম থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার বাকি তিনজনের মরদেহ উদ্ধার শেষে অভিযান শেষ করা হয়। কিন্তু জাহাজের তেল খালাসের কাজ চলছিল। এর মধ্যেই সন্ধ্যায় আবার জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে এখন পর্যন্ত ৯ পুলিশ সদস্যসহ ১৪ জন আহত হওয়ার খবর এসেছে। এর মধ্যে গুরুতর দুজন পুলিশ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-- ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গণেশ চন্দ্র ঘরামি, এসআই হাকিম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গণেশ, কনস্টেবল মেহেদী, শওকত ও দ্বীপ, নৌ-পুলিশের এসআই মোস্তফা, এটিএসআই হেলাল উদ্দিন ও নায়েক সিদ্দিক।
সাগর নন্দিনী-২ নামের এই জাহাজে মাত্র ছয় মাস আগে ২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে চাঁদপুরে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে যাওয়ার পথে ভোলার তুলাতুলি কাঠিরমাথা এলাকায় ডুবে গিয়েছিল। তখন কুয়াশার মধ্যে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্যাংকারটির তলা ফেটে গিয়েছিল।
এর আগে ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর সুগন্ধা নদীর একই স্থানে একই কোম্পানির সাগর নন্দিনী-৩ জাহাজটিতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন।