রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৩ ১২:২২ পিএম
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৩ ১২:২২ পিএম
রাজশাহী নগরীর পদ্মাবাসিক এলাকায় অবস্থিত উম্মুল কুরআন মাদ্রাসা। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) ঈদের দিন ওই মাদ্রাসায় এলাকাবাসী তাদের কোরবানির পশুর চামড়া দান করেন। যার মধ্যে ৭০টি ছিল খাসির চামড়া।
দান করা গরুর চামড়াগুলো ৫০০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি করেন মাদ্রাসার মাওলানা মো. নাজমুল। তবে ৭০টি খাসির চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।
চামড়া ব্যাবসায়ীদের কাছে সবগুলো খাসির চামড়ার জন্য ১০ টাকা পিস হিসেবে প্রথমে ৭০০ টাকা চেয়েছিলেন নাজমুল। তবে কেউ তাতে রাজি হননি। এরপর তিনি বাধ্য হয়ে ৭০০ টাকা থেকে কমতে কমতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নামেন। এতেও কেউ সেই চামড়াগুলো নিতে রাজি হয়নি। এভাবে বেলা গড়িয়ে রাত্রি নামে।
শেষ পর্যন্ত তিনি বিরক্ত হয়ে চামড়াগুলো ফেলে দিতে চান। তবে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জানান, চামড়া ফেলে দিলে বা নষ্ট করলে এবং তা জানাজানি হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এতে তিনি কিছুটা ঘাবড়ে যান।
এরপর তিনি রিকশা ভাড়া করে চামড়াগুলো নিয়ে যান নগরীর রেলগেট সংলগ্ন স্টেডিয়ামের সামনে চামড়া পট্টিতে। সেখানেও খাসির চামড়া নিতে অনীহা ব্যবসায়ীদের। শেষ পর্যন্ত তিনি চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে কাকুতি-মিনতি করে ২০০ টাকার বিনিময়ে চামড়াগুলো দিয়ে আসেন।
মাওলানা মো. নাজমুলের দাবি, এতে তার রিকশা ভাড়ার টাকাও ওঠেনি।
তিনি জানান, তার মাদ্রাসায় প্রায় ১০০ জন দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিফজ পড়ছেন। সমাজের বিত্তবানরা তার মাদ্রাসায় অর্থ দান করেন। সেই অর্থে শিক্ষার্থীদের খাবার খরচ যোগাড় হয়। ঈদের সময় চামড়ার টাকাও গরিব ছাত্রদের কাজে লাগে।
দরগাপাড়া এলাকার ফরহাদ হোসেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী। তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানি দেওয়া খাসির চামড়া কিনেছেন ২০ থেকে ২৫ টাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সেই চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। ফরহাদের ভাষায় পাইকাররা খাসির চামড়া দেখলেই নাক সিটকাচ্ছেন। খাসির চামড়া দেখলেই তারা তাচ্ছিল্য করছেন।