বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৩ ১০:২৪ এএম
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর চাচা-ভাতিজার প্রথম দেখা হয় ঈদের দিন। দুজনে কোলাকুলি করেন। প্রবা ফটো
বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শেষ ঈদের নামাজ আদায় করতে গিয়ে নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ঈদুল আজহার নামাজ শুরুর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থণা করেন। আর তার চাচা এই সিটির নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের অবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত আধুনিক-শন্তিময় সুন্দর শহর গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল ৭টায় বরিশাল নগরীর বান্দরোডে অবস্থিত হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজাহার প্রধান জামাতে নামাজ আদায়ের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তারা এসব বলেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মানোনয়ন দেওয়ার পর এবার প্রথম চাচা-ভাতিজার সামনাসামনি দেখা হয়। ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সাদিক আবদুল্লাহ তার চাচা খায়ের আবদুল্লাহর পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন। পরে ঈদের নামাজের মোনাজাত শেষ চাচা-ভাতিজা কোলাকুলি করেন। একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশেন নির্বাচনের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের জন্য মানোনয়ন চেয়েছিলে সাদিক আবদুল্লাহ্ ও তার চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ্। তাদের মধ্যে খায়ের আবদুল্লাহকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এ দিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে বিরোধ চরমে উঠে। যা নিয়ে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পুরো নির্বাচনের সময় সাদিক আবদুল্লাহকে বরিশালে দেখা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ওই সময়ে বারবারই জানিয়েছেন ১২জুন পযর্ন্ত সাদিককে বরিশালে না আসার জন্য কেন্দ্র থেকে নিষেধ করেছে। ভোট শেষে ৮৩ দিন পরে তিনি গত ২২ জুন বিশাল শোডাউন দিয়ে বরিশালে আসেন। এরপর নবনির্বাচিত মেয়র খায়ের আবদুল্লাহর সঙ্গে সাদিকের প্রথম দেখা।
ঈদের নামাজের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাদিক আবদুল্লাহ্ বলেন, ‘বিদায়ী মেয়র হিসেবে আপনাদের সামনে এটাই আমর শেষ বক্তৃতা। এ নিয়ে ৫টি ঈদ কাটালাম। আমরা সবাই সবার জন্য দোয়া করব। দোয়া করব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য, দোয়া করব আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর জন্য।’
তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘শুভেচ্ছে আগেও জানিয়েছি, আবারও শুভেচ্ছা জানাই নবনির্বাচিত মেয়র আমার চাচাসহ উপস্থিত সবাইকে।’
কর্মক্ষেত্রে নিজের ভুল শিকার করে সাদিক বলেন, ‘আমার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না। আমার স্বার্থ বলতেই বরিশালবাসীর স্বার্থ। আমি আছি, ছিলাম, থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, বরিশালের মানুষের পাশে থাকব, সেবা করব। এজন্য মেয়র থাকতে হবে বলে কথা নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই ঈদে মনের ভেতর যে কালিমা আছে, তা ধুয়ে-মুছে আমরা যেন নতুন করে সবাই এগোতে পারি। জাতির পিতার সোনার বাংলা, শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা যেন সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বরিশালবাসী আমাকে যে সন্মান দিয়েছে, সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বরিশালবাসী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সঠিকভাবে যেন আমি পালন করতে পারি, সেজন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাচ্ছি। আল্লাহ আমাকে কাজ করার তৌফিক দান করুন।’
বরিশালবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া চাই, আপনারা যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন তা পালনে যেন আমি কামিয়াব হতে পারি। আমরা যেন শন্তিময় একটি সুন্দর আধুনিক শহর গড়তে পারি।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বরিশালবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়ে পানিসম্পাদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম বলেন, ‘আসুন আমরা এ দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। সবাই মিলে কাজ করি। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি।’
ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান বলেন, ‘আজ আমরা একে অপরের জন্য দোয়া করব। একে অপরকে ক্ষমা করে দিব। অন্তরের ভেতরের কালিমাকে কোরবানি করব। নিজেদের নতুন পথ চলা শুরু করব।’