শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৩ ২২:০১ পিএম
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৩ ০৯:৪০ এএম
গোলাম রাব্বানী নাদিম। ছবি : সংগৃহীত
'শুধু ঈদ না। ওরা আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। ঈদের আগে আমাদের বাসা থাকত উৎসবমুখর। এইবার আমাদের আব্বুও নাই, ঈদও নাই। মার্কেটে গিয়ে বলতেন, সবচেয়ে দামি জামা বের করো আমার মেয়ের জন্য। এখন কেউ বলবে না। কেউ ঈদের আগের দিন বলবে না, আর কী কী বাকি আছে, চলো কিনে নিয়ে আসি। এখন বলার মতো কেউ নেই!’ এভাবেই বাবা না থাকার অনূভুতি প্রকাশ করলেন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের মেয়ে রাব্বিলাতুন জান্নাত।
আর ছেলে আবদুল্লা আল মামুন রিফাত কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত ঈদেও বাবার সাথে গরু কিনেছি। কোরবানি করেছি। জামাকাপড় কিনেছি আর এ ঈদে আমার বাবা নেই।'
গত ১৪ জুন রাতে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জের পাথাটিয়ায় অস্ত্রধারীরা সাংবাদিক নাদিমকে পিটিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। রাত ১২টায় সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন বিকাল পৌনে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের বাড়ি বকশিগঞ্জ উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের গোমেরচর গ্রামে। পেশাগত কারণে বকশিগঞ্জ বাজারের গরুহাটি এলাকার থাকতেন।
জান্নাতের সাথে কথা বলে জানা যায়, নাদিম-মনিরা দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছেলে রিশাদ আব্দুল্লার বয়স আট বছর। বড় ছেলে আবদুল্লা আল মামুন রিফাত কলেজে পড়ালেখা করেন। আর একমাত্র মেয়ে রাব্বিলাতুন জান্নাত অর্নাসে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে আর মেয়ে 'বাবা আর নেই' বুঝতে পারলেও ছোট্ট রিশাদ এখনও বোঝে না, বাবা আর ফিরবে না। তিন ভাই বোনের একই কথা, আব্বু ছাড়া তাদের ঈদ হবে কী করে। পরিবারের প্রধান নাদিমকে হারিয়ে এবার বিবর্ণ আর আনন্দবিহীন ঈদ পালন করছে তারা।
বাবাকে হত্যার বিচারের জন্য সবার সহযোগিতা চান তারা। জান্নাত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে আছি। খুনিরা যেহেতু সবাই ধরা পড়েননি। আসামিরা তো আর বাংলাদেশ ছাইড়া যায় নাই। উনারা কই আছেন, প্রশাসন কি ঘুমিয়ে আছে?’
গত ২৩ জুন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান বাবু। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এর আগে নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে বাবুকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জামালপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আরমান আলী বলেন, ‘রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাকি আসামিরা গ্রেপ্তার হবেন। একই সঙ্গে মামলাটি আমরা খুব গুরুত্ব দিয়েই দেখছি এবং কাজ করছি।’