চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:০০ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৫১ পিএম
চট্টগ্রাম ইপিজেডে কেন্দ্রীয় পানি শোধনাগার স্থাপন উদ্বোধন শেষে দোয়া করা হয়। ছবি : প্রবা
কর্ণফুলী নদী থেকে পানি তুলে তা শোধনের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম ইপিজেডে কেন্দ্রীয় পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে। এ শোধনাগার থেকে দৈনিক ৩০ লাখ গ্যালন (প্রায় ১১৩৬৪ ঘনমিটার) পানি উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পানি শোধনাগার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।
তিনি বলেন, এ ইপিজেড ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। আমরা কর্ণফুলী থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করেছি। সমুদ্রের সঙ্গে সংযোগ থাকায় এ পানিতে লবণাক্ততা বেশি। তাই রিভার্স ওমোসিস প্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। এর আগে কর্ণফুলী ইপিজেডে প্ল্যান্ট করা হয়েছিল। সেখানকার চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম ইপিজেডেও পানি সরবরাহ করা হতো। পর্যায়ক্রমে দেশের সবগুলো ইপিজেডে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার জিরো করে ফেলা হবে।
পানি শোধনাগার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও পানি সরবরাহে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিগমা গ্রুপের সঙ্গে ৩০ বছরের চুক্তি করেছে চট্টগ্রাম ইপিজেড কর্তৃপক্ষ। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পানি শোধনের সব আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করেছে। কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পতেঙ্গার সাইলো জেটিসংলগ্ন স্থানে পাম্প স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
সিগমা গ্রুপের তথ্যমতে গ্রাউন্ড রিচার্জের মাধ্যমে বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি পাম্পের মাধ্যমে মাটির ৫০০ থেকে ৮০০ ফুট তলদেশে ঢোকানো হবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা বাড়বে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির লবণাক্ততা বেড়ে গেলে তখন এ পানি আবার পাম্পের মাধ্যমে ওপরে টেনে পরিশোধন করে কাজে লাগানো যাবে।
এর আগে ২০১৬ সালে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ ইউনিভার্সাল জিন্স, প্যাসিফিক জিন্স ও এনএইচটি ফ্যাশনস কারখানায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। পর্যায়ক্রমে জিন্স-২০০০, প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস এবং গত বছর প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যার লিমিটেডে একই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ছয় বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ১৪২ ঘনমিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এটি প্রতিষ্ঠানটির চাহিদার ২ শতাংশের বেশি পূরণ করেছে।
এ ছাড়া চলতি বছর কানাডিয়ান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মাইডাস সেফটি বাংলাদেশ লিমিটেড দুটি ইউনিটে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রিজার্ভারটিতে ৭০ হাজার গ্যালন পানি ধারণের সক্ষমতা রয়েছে।
১৯৮৩ সালে যাত্রা করা চট্টগ্রাম ইপিজেডে বর্তমানে ১৪৮টি কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে পানির চাহিদা বাড়লেও এতদিন সংকট সমাধান করা যায়নি। ইপিজেডের অভ্যন্তরেই নিজস্ব পানিব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এতে পানির সংকট দূর হবে।
প্রবা/আরএম/ এমআই