চট্টগ্রাম-১০ আসন
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৩ ২১:১১ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৩ ২২:১৭ পিএম
গত ২ জুন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. আফছারুল আমিন এমপির মৃত্যুর পর শূন্য হয় চট্টগ্রাম-১০ আসন (ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী)। ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুর পর আসনটি ধরে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে নৌকার টিকিট পেতে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ২৯ জন আওয়ামী লীগ নেতা।
উপনির্বাচনে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৪ জুলাই, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৬ জুলাই, ৭ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত আপিল করা যাবে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১১ জুলাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ জুলাই এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৩ জুলাই। নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটকেন্দ্রে বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা।
এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে শেষ দিন সোমবার (২৬ জুন) ২৯ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
তিনি বলেন, ’প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় মনোনয়ন বোর্ড যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।’
দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীরা হলেন—মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শফর আলী, একেএম বেলায়েত হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, প্রয়াত সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীনের ভাই ও পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. এরশাদুল আমীন, স্ত্রী কামরুন নেছা, ছেলে ফয়সাল আমীন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ অহীদ সিরাজ চৌধুরী, চার নং আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রেজওয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ, দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য জাবেদ নজরুল ইসলাম, পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হেলাল উদ্দীন চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, সদরঘাট থানা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেদুল হাসান, ডবলমুরিং থানা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রোকসানা পারভীন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেবিএম শাহজাহান, দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের সদস্য আরিফুল আমিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. শেখ শফিউল আজম, এনায়েতবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য আহমেদ ফয়সাল চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেহানা বেগম রানু ও লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল ফজল কবির আহমেদ।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য একেএম বেলায়েত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সেই ১৯৬৬ সাল থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ৫৭ বছরের এই রাজনৈতিক জীবনে কখনও কিছু পাওয়ার জন্য করিনি। এখন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় মনোনয়ন বোর্ড আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সিনিয়রিটি চিন্তা করে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব।’
চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে দলীয় সবার তথ্য আছে। তিনিই যাকে যোগ্য মনে করেন তাকে মনোনয়ন দেবেন। আমি মনোনয়ন পেলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কাজ করব।’