ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৩ ১৯:০৯ পিএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩ ১৯:৪০ পিএম
২১ জুন (বুধবার) বিকালে মেয়েকে পুকুরে গোসল করাতে নিয়ে যান ফেনীর টিপু মিয়া। পরে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে এলাকায় মাইকিং করেন টিপু ও স্বজনরা। কিন্তু পুকুরে তার লাশ ভেসে ওঠে। এতে এলাকাবাসী যারা মেয়েকে নিয়ে টিপুকে পুকুরে যেতে দেখেছিলেন, তাদের সন্দেহ হয়। গ্রেপ্তার হন টিপু মিয়া।
টিপু দাগনভূঁঞা উপজেলার জয় নারায়ণপুর গ্রামের কবির আহমেদের ছেলে। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। মেয়েকে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন নিহত আরিফার মা রোমানা আক্তার।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের দিকে পারিবারিক কলহের জেরে টিপুর সঙ্গে তার স্ত্রী রোমানা আক্তারের ছাড়াছাড়ি হয়। সে সময় জান্নাতুল আরিফা আক্তার নামে এই মেয়ের বয়স ছিল ৯ মাস। এখন ৯ বছর। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে টিপু দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেখানে আরও দুই মেয়ের জন্ম হয়। একদিকে প্রথম স্ত্রীর মেয়ের ভরণ-পোষণ, আরেক দিকে দ্বিতীয় সংসারের ব্যয়—এই চাপে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্বল্প আয়ের টিপু মিয়া।
অটোরিকশাচালক টিপু মিয়ার অন্য কোনো আয়-রোজগার বা সহায়-সম্পত্তি নেই। সম্প্রতি তিনি অভাব থেকে মুক্তি পেতে মেয়ের ভরণ-পোষণ দেওয়ার বদলে তাকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
দাগনভূঁঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম জানান, ঘটনার পর থেকে আরিফার বাবা আত্মগোপনে চলে যায়। শনিবার দিবাগত রাতে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে টিপু ভরণ-পোষণ দেওয়া থেকে বাঁচতে মেয়েকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। রবিবার (২৫ জুন) বিকালে ঘাতক পিতা টিপু মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।