পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪:০৮ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:২১ পিএম
ইছামতী পাড়ে নৌকাবাইচ দেখতে ভিড় উৎসুক মানুষের। ছবি : প্রবা
প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল আগেই। চলতি মাসের ১৮ তারিখে পর্দা ওঠে নৌকাবাইচের। বুধবার প্রতিযোগিতার দশম দিনের আবহ ছিল একটু ভিন্ন। কারণ এ দিন পর্দা নামার পাশাপাশি ছিল বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার আয়োজন।
পাবনার সাঁথিয়ায় ইছামতী নদীর পাড়ে প্রতিযোগিতার ফাইনাল দেখতে বুধবার ঢল নেমেছিল মানুষের। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাইচ দেখতে আসেন অনেকেই। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য উপভোগ করতে পেরে দারুণ খুশি তারা।
এবারের প্রতিযোগিতায় জেলা ও জেলার বাইরের ৮টি দল অংশ নেয়। শেষ দিনের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় বাগচী চ্যালেঞ্জার। রানার্স আপের পুরস্কার ওঠে মায়ের দোয়া দলের হাতে।
ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সাঁথিয়া পৌরসভার মেয়র মাহবুবুল আলম বাচ্চুর সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে বেড়া পৌরসভার মেয়র আসিফ শামস রঞ্জন, সাঁথিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার, সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শামসুল হক টুকু বলেন, ‘নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, নৌকা বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, নৌকা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক। এই নৌকা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জাদুকরি নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের একটা পরিচিতি এনে দিয়েছেন। জাতিসংঘের ঘোষণা আদায় করে নিয়েছেন। আর এই সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে নৌকা।’
তিনি আরও বলেন, গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া এসব ঐতিহ্যকে আবার ফিরে এনেছেন। এতে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পান।
এবারের বাইচে বাগচী চ্যালেঞ্জার, প্রামাণিক ফাইটার, মায়ের দোয়া, উড়ন্ত বলাকা, সততা এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস, বাংলার রকেট, পবাখালি এক্সপ্রেস নৌকাবাইচে অংশ নেয়।
প্রতিটি নৌকায় ৬০ থেকে ৬২ জন করে বাইচাল থাকেন। একজন ধরেন হাল আর দুজন ছন্দে ছন্দে উৎসাহ দেন খেলোয়াড়দের। বাজনার তালে তালে আঞ্চলিক গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন তারা।
প্রবা/ইউরি/এমজে