সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩ ১৭:০০ পিএম
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মো. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নাঈমুল হকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ একিউএম নাছির উদ্দীন এ নিষেধাজ্ঞা দেন।
২০ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দেন।
রবিবার (২৫ জুন) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলী মর্জুজা কিবরিয়া বলেন, ’সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের যে অভিযোগ রয়েছে, তার তদন্ত করছে দুদক। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছে। ফলে দুদকের পক্ষ থেকে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন।’
চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয় সরকার। ২০১৮ সালে নগরীর চৌহাট্টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়সংলগ্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে প্রথম ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ) নাঈমুল হককে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ইউজিসির অনুমোদিত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে দেড় শতাধিক অ্যাডহক নিয়োগ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের দিকে মনোযোগ না দিয়ে শীর্ষ দুই কর্মকর্তা অনিয়ম-দুর্নীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তাতে ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের নিয়োগ বাাণিজ্যের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপর দুদক তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পায়।