সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১৪:৪০ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩ ১৬:০৩ পিএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে নতুন করে ইউটার্ন ও ইউলুপ নির্মাণ করায় কমে গেছে যানজট। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় পাল্টে গেছে ১৪ কিলোমিটার সড়কের যানজটের চিত্র। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে যানবাহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপরের ক্রস সড়কটি বন্ধ করে দেয় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর আগেই কাঁচপুর নয়াবাড়ি ও কেওঢালার ইউটার্ন খুলে দেওয়া হয়। ফলে মহাসড়কে এখন আর কোনো যানজট নেই।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার যানজট নিরসনে সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ (জিওবি) মেজর খাত থেকে ৫৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে পরিকল্পনায় দুটি ফুটওভার ব্রিজ, দুটি ইউটার্ন, মারিখালি ও লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের নিচ দিয়ে চারটি ইউলুপ নির্মাণ করার জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এ বছরের জুন মাসে সব কাজ শেষ করে সড়কটি খুলেও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর ব্রিজ ও ব্রিজের দুইপাশে ইউলুপ, লাঙ্গলবন্দ, দড়িকান্দি, ভাটেরচর, ভবেরচর সড়কে চারটি ফুটওভার ব্রিজ ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মেঘনা গোমতি সেতুর চট্টগ্রাম প্রান্তে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ইউটার্ন নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে ওই অংশের যানজট নিরসন হয়েছে।
সড়ক বিভাগ জানায়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় মহাসড়কের দুপাশে সার্ভিস লেনসহ ১০ লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটারের যানজট নিরসনে ফুটওভার ব্রিজ, ইউটার্ন ও ইউলুপ নির্মাণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে মহাসড়কে কাটা অংশের সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর খুলে দেওয়া হয়েছে ইউটার্ন ও ইউলুপ। ঢাকার বাইপাস থেকে মদনপুর দিয়ে সরাসরি যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওঠা-নামা করতো। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। এই ক্রস পুরাপুরিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুরের নয়াবাড়ি ও কেওঢালার ইউটার্ন খুলে দেওয়ায় গাড়ির চালকরা খুব সহজে যানজট মুক্তভাবে ইউটার্ন দিয়ে যানবাহন ঘুরাতে পারছেন। এতে চালকরা খুশি।
এ ব্যাপারে কার্ভাডভ্যান চালক হেলাল বলেন, ‘মহাসড়কের কেওঢালার ইউটার্ন দিয়ে সহজে গাড়ি ঘুরাতে পারছি। এতে আমি অনেক খুশি। মহাসড়কের কাটা অংশ দিয়ে আগে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে হতো, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকতো ও যানজটের সৃষ্টি হতো। এখন ইউটার্ন নির্মাণ করে দেওয়া গাড়ি ঘুরাতে ঝুঁকিও নেই, সড়কের যানজটও নেই।’
কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের চালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘দুদিন ধরে চিটাগাং রোড থেকে মেঘনা টোলপ্লাজায় আসতে কোনো ধরনের যানজট পাইনি। আশা করি এবার ঈদের যাত্রীদেরকে যানজট মুক্ত সড়কে গন্তব্যে পৌঁছায়ে দিতে পারব। মহাসড়কের সকল কাটা অংশ বন্ধ করে ইউটার্ন নির্মাণ করায় এমন যানজট মুক্ত সড়ক হয়েছে।’
ঢাকা থেকে আসা স্বপন মিয়া বলেন, ‘ঢাকা থেকে ৩৫ মিনিটে সোনারগাঁয়ে এসেছি কোনো যানজটের মধ্যে পড়েনি। মহাসড়কের মদনপুরে সবসময় যানজটে দীর্ঘসময় আটকে থাকতে হয়েছে। ওইখানের মাঝখানের সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ায় যানজট প্রায় শেষ হয়ে গেছে।’
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সাইনবোর্ড মহাসড়কের ক্রস বন্ধ করে ইউটার্ন নির্মাণ করে দেওয়ায় যানজট নিরসন হয়েছে। একইভাবে আমরা মদনপুরের আগেই ঢাকামুখী ও চট্টগ্রামমুখী দুটি ইউটার্ন নির্মাণ করেছি। ফলে ঢাকার বাইপাস থেকে মদনপুর দিয়ে সরাসরি যানবাহন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠার ফলে যানজটের কোনো জটিলতা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেঘনা টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেলের জন্য ২৪ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত আলাদা লেন করে দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সড়ক বিভাগের পাশাপশি রোভার স্কাউটের সদস্যরা মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া মেঘনা ও দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় আমাদের লোকজন সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকবে।’
শাহানা ফেরদৌস বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রায় হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক জনপথ বিভাগ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি এ বছর কোনো ধরনের যানজটের সৃষ্টি হবে না।’