মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৩ ২৩:৪০ পিএম
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান সাইদুর রহমান।
শুক্রবার (২৩ জুন) বিকালে হরিরামপুর উপজেলা চত্বরে উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে হরিরামপুরে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হিসেবে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় ও হরিরামপুরে একটি বালুমহাল ইজারাকে কেন্দ্র করে এমপি মমতাজ বেগম ও তার অনুসারীরা আমার ওপর নাখোশ। এর জের ধরে হরিরামপুরে আমার অনুসারী আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি হয়রানীমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলোতে আমার ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে।
হরিরামপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে দাবি করে দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নেপথ্যে রয়েছেন মমতাজ বেগম। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মারাত্নক প্রভাব পড়বে।
এমপি মমতাজের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের দলে ভেড়ানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। বলেন, হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমান হচ্ছে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান। লুৎফর রহমান একসময় ছাত্রদলের রাজনীতি করতো। এখন মমতাজ বেগমের নির্দেশে হরিরামপুরে সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে। এছাড়া মমতাজ বেগমের সন্ত্রাসী বাহিনী হরিরামপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের বিনা কারণে মারধর করছে আবার তাদেরই আসামি করা হচ্ছে। অথচ আমার অনুসারীরা মারধরের শিকার হলেও থানা পুলিশ কোনো মামলা নিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি এমপি মমতাজ বেগমের লোকজনের হাতে আহত হয়েছেন ধুলশুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী কালাম। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমানের নেতৃত্ব ১৫ থেকে ২০ জন তাকে রক্তাক্ত করেছে। এরপর থানায় নিয়ে পুলিশের সামনেই পুনরায় মারধর করা হয়। হামলায় আহত হওয়ার পর আবার তাকেই মামলার আসামি করা হয়। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমাদের এমপি কোনো সন্ত্রাসীবাহিনী পালেন না। আমরা কারো ওপর হামলা করিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান, তার ছেলে ও লোকজন নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। বালুমহালের নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে মাটি কাটছে চেয়ারম্যান। আমরা বালুমহালের বিরোধিতা করিনি, বেরিবাধ হুমকিতে পরবে বলে বালুমহাল নিয়ে কথা বলেছি।
অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম বলেন, আমি ১৫ বছর ধরে এলাকায় উন্নয়নের রাজনীতি করছি। আমি শিল্পী মানুষ, আমি কাউকে ধমক পর্যন্ত দিইনি। কোনো দিন সন্ত্রাসের রাজনীতি করিনি। আমার কোনো সন্ত্রানীবাহিনী নেই। হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান কী করেন তা এলাকার জনগণ জানেন। তার লোকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মারধর করছে। বালুমহালের টেন্ডার পেয়ে তিনি নদীর পাড়ের বাধ ঘেষে বালু কেটে নিচ্ছেন। এতে বাধ হুমকির মুখে পড়েছে ও স্থানীয় লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই কারণে ওই বালুমহাল বন্ধের জন্য ডিও লেটার দিয়েছি। হরিরামপুরে আইনশৃঙ্খলা অবনতির জন্য দেওয়ান সাইদুর রহমানই দায়ি।