চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৩ ১৯:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩ ২০:৩১ পিএম
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মো. জুয়েল হোসেন ও দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের মাইজপাড়ার মোহাম্মদ আজম। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামে বিদেশে ম্যাগনেট পিলার বিক্রির কালো টাকা আনতে সমিতি খুলে প্রতারণার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জুন) সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার মো. সোহাগ নামে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল হোসেন (৩৩) ও দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের মাইজপাড়ার মো. আলীর ছেলে মোহাম্মদ আজম (৫০)। এর মধ্যে আজম ওই সমিতির ক্যাশিয়ার ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বন্দর থানার ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা জানান, বন্দর এলাকার সোহাগ ২০১৪ সালে কলসী দীঘিরপাড় ওমরশাহ মাজারের সামনে জেরিন সুজ নামে একটি দোকান খোলেন। করোনার সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় মো. জুয়েল হোসেন নামের এক ব্যক্তির। তিনি সোহাগকে জানান, একটি বিদেশি ম্যাগনেট সীমানা পিলার পেয়েছেন, যেটি সিঙ্গাপুরে ৩০০ কোটি টাকায় বিক্রিও করেছেন। কিন্তু কালো টাকা হওয়ায় নিজের একক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা আনতে পারছেন না। এই টাকা দেশে আনার ফন্দি হিসেবে সমিতি চালু করা এবং সদস্যদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা দেশে আনবেন। পরে সমিতি খোলেন জুয়েল। যারা সদস্য হবেন, তাদের অ্যাকাউন্টে আসবে টাকা। সেই টাকা থেকে সদস্যরা প্রত্যেকে পাবেন সাত কোটি করে। শর্ত হচ্ছে, সদস্য ফরমসহ কিছু প্রক্রিয়া আছে। যার খরচ দিতে হবে সদস্যদের। এমন সহজ শর্তে সদস্য হন সোহাগ।
ওসি আরও জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দর থানার নতুন ২ নং সাইট মেহের আফজাল স্কুলের পাশে নাজিরের ভাড়াঘরে বন্ধুমহল গ্রিন বাংলা সমবায় সমিতির অফিস খুলে চলছিল এই সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রম। দীর্ঘ আড়াই বছর বিভিন্ন প্রলোভনে দফায় দফায় টাকা খোয়ানো সদস্যরা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হচ্ছেন।
ওসি জানান, ভুক্তভোগী সোহাগের কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় জুয়েল-আজম চক্র। টাকা আনার জন্য সদস্যদের সিঙ্গাপুর যেতে হবে—এমন কথা জানিয়ে পাসপোর্ট করা, ডাক্তারি পরীক্ষা আর ভিসা খরচ বাবদ এই টাকা নেওয়া হয়। একইভাবে প্রতারিত আরও তিনজন ব্যক্তির তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও প্রতারণার শিকার ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেশি।
পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার জানান, প্রতারণার শিকার সোহাগ ১৮ জুন চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য দুই আসামি সমিতির সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ইসা ও সাধারণ সম্পাদক শাওন হায়দারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।