× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছিদ্রে জর্জরিত ভূগর্ভস্থ গ্যাসলাইন

মো. সেলিম রানা, কালিয়াকৈর

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৩ ১৪:২৮ পিএম

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩ ১৪:৩৫ পিএম

ছিদ্রে জর্জরিত ভূগর্ভস্থ গ্যাসলাইন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাসলাইনে অসংখ্য ছিদ্র দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্যাসলাইনে অর্ধশতাধিক ফুটো রয়েছে। এতে গ্যাস না পেয়ে কাল-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়াসহ আবাসিক এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়েছেন। মাঝেমধ্যেই ছিদ্রগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও কোনো পরিত্রাণ মিলছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা নিজ উদ্যোগে সিমেন্ট ও বালু দিয়ে ছিদ্রগুলো বন্ধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তর পাশ দিয়ে তিতাস গ্যাসের ভূগর্ভস্থ সরবরাহ লাইন রয়েছে। এ লাইনের পৃথক চারটি স্থানে বড় ধরনের ছিদ্র রয়েছে। আঞ্চলিক আবাসিক লাইনগুলোর আরও বেহাল অবস্থা। পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাইনে অর্ধশতাধিক ছিদ্র রয়েছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। ছিদ্রগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত গ্যাস বের হচ্ছে। এলাকায় বেশিরভাগ সময় গ্যাস থাকে না। কিন্তু বাতাসে জ্বালানি গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সামনে মহাসড়কের সার্ভিস লাইনের নিচ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে ছিদ্র রয়েছে। কিছু দিন আগে এখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ওই স্থানে বড় দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া উপকেন্দ্রের বেশ কিছু মালামাল আগুনে নষ্ট হয়ে যায়। ছিদ্র মেরামতের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে লিখিতভাবে জানানো হয়। কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও তিতাস কর্তৃপক্ষ মেরামত করতে পারেনি। ওই ছিদ্র দিয়ে অনবরত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে পরিবেশে। তারই লাগোয়া পল্লী বিদ্যুতের ৩৩/১১ কেভি ৩০ এমভিএ উপকেন্দ্র। এই কেন্দ্রের শিল্প ও আবাসিক সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও এই উপকেন্দ্রে ভারী যন্ত্রাংশ রয়েছে, যা আগুন বা গ্যাসের সংস্পর্শে এলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে হরিণহাটি প্রবেশদ্বার কালভার্টের নিচে কয়েকটি ছিদ্র রয়েছে। কয়েক দফায় মেরামত করা হলেও তা কাজে আসেনি। কালভার্টের নিচ দিয়ে মহল্লা ও শিল্প-কারখানার পানি প্রবাহিত হয়। ওই স্থানে পাইপের ছিদ্রে গ্যাসের চাপের কারণে পানির ফুলকি এক থেকে দুই ফুট উচ্চতার বেশি ওঠে।

স্থানীয়রা জানান, হরিণহাটি এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার পূর্ব দিকে আদর্শনগর এলাকার মহাসড়কের উত্তর পাশে সার্ভিস লেনের মাঝামাঝি প্রথমে একটি ছিদ্র তৈরি হয়। ছিদ্রটি দিয়ে নিয়মিত গ্যাস বের হতে থাকে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সেখানে ছিদ্রের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এতে পাকা রাস্তায় উঁচু ঢিপি তৈরি হয়। ওই স্থানে অনবরত গ্যাস নিঃসরণের শব্দ ও গন্ধ পাওয়া যায়। কিছু দিন আগে কয়েক দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

আদর্শনগর এলাকা থেকে এক কিলোমিটার পূর্ব দিকে সফিপুর বাজারের পশ্চিমে বেসরকারি ব্যাংকের বিপরীত পাশে বেশ কয়েকটি ছিদ্র রয়েছে। কর্তৃপক্ষের কয়েক দফায় মেরামত ও স্থানীয়রা বালুভর্তি বস্তা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি।

ছিদ্রযুক্ত পাইপলাইনের পাশ দিয়ে মহাসড়কে প্রতিদিন দূরপাল্লা, আন্তঃজেলা যাত্রী ও পণ্যবাহী ছোট-বড় সহস্রাধিক গাড়ি চলাচল করে। মহাসড়কের ফুটপাথ দিয়ে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী ও গার্মেন্টসকর্মীরা আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের পাশে ছিদ্র থাকায় স্থানীয়রা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না। তাপপ্রবাহের কারণে চারদিক উত্তপ্ত, কখন বিস্ফোরণ ঘটবেÑ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ, হরিণহাটি, দীঘিরপাড়, পূর্ব চান্দরা ও সফিপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক পাইপলাইনে বিভিন্ন স্থানে বুদবুদের সৃষ্টি হয়। ছিদ্রযুক্ত পাইপের পাশ দিয়ে পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, তাদের এলাকায় অনেক কল-কারখানা রয়েছে। বহু শ্রমিক বাস করেন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়। সময়মতো গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নায় সমস্যা হয়। বিকল্প হিসেবে মাটির তৈরি চুলায় কাঠ পুড়িয়ে রান্না করতে হচ্ছে। নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও গ্যাস না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার (গাজীপুর) প্রকৌশলী মো. রেদওয়ানুজ্জামান জানান, গ্যাসের অপচয় ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাকে দূর করতে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসন্ন ঈদুল আজহায় কারখানা বন্ধ থাকায় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বেশি থাকলে কমানোর ব্যবস্থা করা হবে। মহাসড়ক খননসহ বিভিন্ন কারণে মেরামতের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানালেন এই কর্মকর্তা।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা