আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ১৩:৩৫ পিএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১৭:০৬ পিএম
আখাউড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ। প্রবা ফটো
'আমরার কষ্টের কপাল কষ্টই করতে অইব। ঘরের সামনে পানি। রাস্তায় পানি। ঘর থেকে বের হতে পারি না। এভাবে আর ভাল্লাগে না। ময়লা পানিতে হেঁটে পুলাপাইনের পায়ে ঘা হয়ে গেছে' আক্ষেপের সুরে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এই কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার চরনারায়ণপুর এলাকার আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা সবিতা রানী বর্মন।
গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতায় দুঃষহ জীবনযাপন করছে প্রকল্পের বাসিন্দারা। জলাবদ্ধকার কারণে বাথরুম, গোসল, রান্না—বান্নাসহ দৈনন্দিক কাজে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা খুব কষ্ট করছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে আশ্রয়ণের বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে সারা দেশের মতো আখাউড়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতক ভূমিতে আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে আখাউড়ায় সাড়ে ৬০০ ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের চরনারায়ণপুর এলাকায় ৭৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬০টি উপকারভোগী পরিবার বসবাস করছে। গত কয়েক দিন ধরে আখাউড়ায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একটি পাইপ বন্ধ যাওয়ায় পানি সরতে পারছে না। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় পানি জমে আছে। বাথরুমের রিং পানিতে তলিয়ে গেছে। ছোট শিশুরা ঘর বের হতে পারছে না। ময়লা নোংরা পানি মাড়িয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন বাসিন্দারা।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা কাজল মিয়ার স্ত্রী আবেদা বেগম বলেন, ‘আমার এক মেয়ে মৃগি রোগী। তাকে নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তাই থাকি। ছোট একটা নাতি আছে। কখন পানিতে পরে যায় সব সময় এই আতঙ্কে থাকি।’
পারুল বেগম নামে আরেক নারী বলেন, রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্না—বান্না করতে খুব অসুবিধা হয়। তাছাড়া বাথরুমের ময়লার রিং পানিতে তলিয়ে গেছে। বাথরুম করতে খুব অসুবিধা হইতেছে। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যায় না।
আশ্রয়ণ প্রকল্প বাসিন্দাদের সভাপতি নিলেশ বর্মন বলেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। চলাফেলা করা যায়।
তিনি বলেন, প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনের ১টি পাইপ বন্ধ হয়ে গেছে। এজন্য পানি সরে না। পাইপটি মেরামত করে দিলে পানি সরে যেত। বৃষ্টিবাদলার দিন এভাবে পানি জমে আমরা বসবাস করতে পারব না। তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেব।’