× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাঁঠাল নয় ‘চাম কাঁঠাল’

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ১২:৩৬ পিএম

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১৩:৫১ পিএম

বিলুপ্তপ্রায় চাম কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে মৌলভীবাজারে। প্রবা ফটো

বিলুপ্তপ্রায় চাম কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে মৌলভীবাজারে। প্রবা ফটো

মৌসুমি ফলের পাশাপাশি মৌলভীবাজারে পাওয়া যাচ্ছে পাহাড়ি ফল ‘চাম কাঁঠাল’। ধীরে ধীরে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ফলটি। সবার কাছে চাম কাঁঠাল নামে পরিচিত হলেও এটি আসলে পাহাড়ি চাপালিশ বা চামলগাছের ফল। এর আরও নাম রয়েছে- চাম্বল, চাম্বুল, কাঁঠালি চাম্বুল, চাম ইত্যাদি।

ফলটি দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। তবে অনেক ছোট আকারের। কাঁঠালের মতোই কোষগুলো স্বাদে হালকা টক-মিষ্টি। কাঁঠালের মতো এ ফলেও রয়েছে বীজ। এ বীজ ভাজলে অনেকটা চীনাবাদামের মতো স্বাদ পাওয়া যায়।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পাথারিয়া, লাঠিটিলা, কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বড়লেখা উপজেলার সমনভাগ, কুলাউড়া উপজেলার বরমচালসহ জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোতে রয়েছে এই ফলের সুউচ্চ বৃক্ষ।

বৃক্ষ গবেষকরা জানিয়েছেন, চাপালিশ উঁচু পত্রঝরা গাছ। এটি ৩০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার হয়ে থাকে। গাছটিতে ফুল আসে মার্চ-এপ্রিল মাসে। এরপর আসে ফল। সাধারণত জুন-জুলাই মাসে ফল পাকার সময়। তবে কিছু কিছু গাছে আগস্ট মাস পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। বন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে চাপালিশের বীজ থেকে চারা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের আসাম, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, সিকিম, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, লাওস, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় এ গাছ দেখা যায়।

সম্প্রতি মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর সড়কের ফুটপাথে চাম কাঁঠাল নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি জানান, প্রতিটি চাম কাঁঠাল ২৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন। গত এক সপ্তাহে মৌলভীবাজারে ৩০০টি চাম কাঁঠাল বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

চাম কাঁঠাল কিনতে এসে অটোরিকশাচালক মজনু মিয়া জানান, তিনি প্রায় এক দশক আগে ফলটির সঙ্গে পরিচিত হন। প্রথম যখন কিনে বাসায় নিয়ে যান, পরিবারের সদস্যরা ফলটি দেখে অবাক হন। ফল খেয়ে সবাই প্রশংসা করেন। এখন প্রতিবছর কিনে থাকেন।

শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডের পাশে রেলগেট এলাকায় চাম কাঁঠাল বিক্রি করেন মনির মিয়া। তিনি জানান, ৮-১০ বছর ধরে মৌসুমে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি চাম কাঁঠাল বিক্রি করছেন। তবে পুরো মৌসুমে ৪০০-৫০০ চাম কাঁঠাল পাওয়া কষ্টকর। প্রতিটি চাম কাঁঠাল বর্তমানে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। যা কয়েক বছর আগেও ছিল ৩ থেকে ৫ টাকা।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার মিত্র ফলটি সম্পর্কে জানান, চাপালিশগাছের ফল খেতে সুস্বাদু। এটি হাতির প্রিয় খাদ্য হলেও বানর, হনুমান, উল্লুক, গন্ধগোকুল প্রাণীরও পছন্দের ফল। একসময় চাপালিশগাছ অনেকটা বিলুপ্তির পথে ছিল। কিন্তু বন্য প্রাণীদের কথা মাথায় রেখে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েক বছর ধরে প্রতিবছর সংরক্ষিত বনগুলোতে চাপালিশসহ আমলকী, বহেড়া, হরীতকী, ডেউয়া, ডুমুর, বট ইত্যাদি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এখন জেলার বনাঞ্চলে প্রচুর চাপালিশগাছ রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা