মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ০৯:৪২ এএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ০৯:৪২ এএম
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা এলাকায় ১০ বছর আগেই সেতুটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও মেরামতের উদ্যোগ নেই। প্রবা ফটো
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা এলাকায় ১০ বছর আগেই কুস্তা বেইলি সেতুটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকম টিকিয়ে রাখা হয়েছে সেতুটিকে। এর ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন ২০ গ্রামের লাখো মানুষ। জরাজীর্ণ এই সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঘিওর উপজেলা কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ঘিওর উপজেলার কুস্তা এলাকায় প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ইছামতী নদীর ওপর ওই বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এই সেতুর ওপর দিয়ে ঘিওরের কুস্তা, নারচী, বেগুন নারচী, শ্রীধরনগর; পাশের দৌলতপুর উপজেলার খলসী, কুমুরিয়া, বিনোদপুর, কাটাখালী, শ্যামগঞ্জ, জিয়নপুরসহ দুটি উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। ২০১২ সালে জরাজীর্ণ সেতুটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ সেতুর পশ্চিম পাশে সরকারি খাদ্যগুদাম, মসজিদ, কবরস্থান ও শ্মশান এবং পূর্ব পাশে রয়েছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাট, বাজার, স্কুল-কলেজসহ নানা স্থাপনা। বিকল্প না থাকায় তার ওপর দিয়েই ছোট যানবাহন ও মানুষকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। প্রতিদিনের বাজার ছাড়াও বুধবার বসে সাপ্তাহিক ঘিওর হাট। সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাটে পণ্য আনা-নেওয়া করতে নানা অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।
দৌলতপুরের জিয়নপুর থেকে যাত্রী নিয়ে আসা সিএনজি গাড়িচালক খালেকুর রহমান জানান, প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে ৩-৪ বার যাতায়াত করতে হয়। যাত্রীদের নিয়ে যখন এই ভাঙা ব্রিজ পার হই তখন খুব ভয় লাগে, মনে হয় কখন ভেঙে পড়ে যায়। যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করে। অনেক সময় রোগী নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। তখন যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায় কে নেবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আওয়াল মিয়া জানান, এই সেতু যাতায়াতের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর আগে দুই দফায় ধসে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে জোড়াতালি দিয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ছোট গাড়ি ও মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেতুর সামনের অংশে আবারও ফাটল ধরেছে। পিলারের পাশ থেকে মাটি সরে গেছে। বর্ষার আগেই যদি সেতুটি মেরামত করা না হয়, তাহলে আবারও ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেতুটির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অপসারণ করে সেখানে আরসিসি সেতু করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান জানান, গত বন্যায় সেতুটির একপাশ ধসে যায়। তখন জরুরি ভিত্তিতে তা মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে এ বছর সেখানে টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে।