পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:২৮ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৩১ পিএম
নিখোঁজদের সন্ধানে করতোয়ার পাড়ে স্বজনেরা। প্রবা ফটো
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় তৃতীয় দিনে আরও ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ অন্তত চারজন।
দুর্ঘটনার তৃতীয় দিনে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের রংপুর, রাজশাহী ও কুড়িগ্রামের তিনটি ডুবুরি দল।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও তদন্ত কমিটির প্রধান দীপঙ্কর রায় মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দীপঙ্কর রায় জানান, ৫১ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর সোমবার রাতে অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে আবার নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা।
বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বোদা উপজেলার আউলিয়ার ঘাট, দেবীগঞ্জের করতোয়া ঘাট এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকায় নদী থেকে মোট ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত দুদিনের মতো মঙ্গলবারও নিখোঁজদের সন্ধানে আওলিয়া ঘাটসহ করতোয়ার বিভিন্ন অংশে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের করা তালিকা থেকে জানা যায়, এখনও অন্তত চারজনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে মাড়েয়া বাজার এলাকার আউলিয়ার ঘাট থেকে দেড় শতাধিক যাত্রীসহ একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিল। ঘাট থেকে নৌকাটি মাঝনদীতে গেলে ডুবে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। কিছু মানুষ সাঁতরে নদীর তীরে ফিরতে পারলেও অনেকে নিখোঁজ থাকেন। নৌকাডুবির পরপরই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নামেন উদ্ধার অভিযানে।
রবিবার ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর সোমবার দিনভর তল্লাশিতে নদীর বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া আরও ২৬টি মরদেহ তুলে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।
বোদা থানার ওসি সুজয় কুমার রায় দুপুরে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, স্রোতের টানে হয়তো অনেক মরদেহ আশপাশের নদীতে ভেসে গেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
করতোয়া নদী উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় এমনিতে খুব খরস্রোতা নয়, গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা।
এর মধ্যে দুর্ঘটনায় পড়া নৌকায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় এবং মাঝ নদীতে নৌকাডুবির কারণে মৃত্যু এত বেশি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
প্রবা/রাই