রিকোর্স চাকমা, রাঙামাটি
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ০৮:৫৩ এএম
পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে উঠেছেন অনেকে। প্রবা ফটো
পাহাড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিদেশি ফল ড্রাগনের চাষ। উঁচু নিচু পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে উঠেছেন অনেকে। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করে সফলতার পথে হাঁটছেন রাঙামাটির মিল্টন চাকমা।
তিনি রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মধ্যমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। দুই একর জমিতে ৭০০ খুঁটিতে ৪ হাজারের বেশি ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন। চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ড্রাগন ফলসংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন ফলের আকারভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উঁচু পাহাড়ের ওপর সারি সারি ড্রাগন গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে টুকটুকে লাল ড্রাগন। প্রতিটি খুঁটিতে ১৫ থেকে ২০টি ফল ধরেছে। বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন মিল্টন চাকমা ও তার স্ত্রী সুপর্না চাকমা।
উদ্যোক্তা মিল্টন চাকমা জানান, দীর্ঘ ৮ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে বিভিন্ন ব্যবসা করতে চেয়েছি কিন্তু কোনোভাবে সফল হতে পারেননি। একপর্যায়ে ইউটিউবের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হই। নিজের জমানো টাকায় দুই একরের একটি পাহাড়ি জমি কিনে ১৫ লাখ টাকা খরচ করে পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলেন ড্রাগন বাগান। চলতি মৌসুমে ১০ মেট্রিকটনের মতো ড্রাগন ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
মিল্টন চাকমার স্ত্রী সুপর্না চাকমা বলেন, এই বাগানটি করার সময় আমিও আমার স্বামীকে অনেক সহযোগিতা করেছি। দুজনে পরিকল্পনা করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। মাঝে মাঝে স্বামী অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলে আমি বাগানটি দেখাশোনা ও পরিচর্যা করি। আমাদের একটাই আশা এই বাগানটির মাধ্যমে আমাদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসবে।
বাগান দেখতে আসা নীল রতন চাতমা ও আনন্দ মণি চাকমা বলেন, ড্রাগন বাগান দেখে আমার খুব ভালো লাগতেছে। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আমিও ড্রাগন বাগান করব।
সাপছড়ি ব্লগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মহসিন রহমান বলেন, মিল্টন চাকমা নিজ উদ্যোগে বাগানটি তৈরি করেছেন। তিনি প্রথম থেকেই কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্বিক পরামর্শ নিয়ে আসছিলেন। পরিকল্পিতভাবে চাষ করায় প্রথম বছরই ভালো ফলন পেয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, রাঙামাটিতে হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে ২০১৪ সালে ড্রাগন চাষ শুরু হয়। পরে পরীক্ষামূলক ভাবে কৃষকদের ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। লাভজনক হওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে পাহাড়ের কৃষকেরা ড্রাগন চাষ শুরু করেন।
এ বিষয়ে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, পার্বত্য জেলাসহ রাঙামাটিতে সাম্প্রতিক সময় ড্রাগন চাষে বেশ সফলতা মিলছে। ড্রাগন চাষের জন্য পার্বত্য এলাকার মাটি ও পরিবেশ বেশ উপযোগী হওয়ায় রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম। কৃষকরা সহজে ড্রাগন চাষ করে লাভবান হতে পারে। রাঙামাটি ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলায় প্রতিবছর ড্রাগন ফলের চাষ বাড়ছে। বর্তমানে রাঙামাটিতে ১৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।