× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভৈরবে প্রস্তুত ১০ হাজার পশু, দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৩ ১৪:৫৫ পিএম

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩ ১৫:৩২ পিএম

ভৈরব ফৌর শহরের একটি খামারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত পশু। প্রবা ফটো

ভৈরব ফৌর শহরের একটি খামারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত পশু। প্রবা ফটো

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১০ হাজারেরও বেশি পশু প্রস্তুত করেছে স্থানীয় খামারিরা। দেশীয় পদ্বতিতে বিভিন্ন জাতের গরু মোটা তাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে খামারি ও চাষিরা। খামারিদের দাবি, চোরাই পথে ভারতীয় বা বিদেশী গরু আনা বন্ধে সরকার যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। বিদেশী গরু আমদানি বা চোরাই পথে এলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে জানান খামারিরা।

শনিবার (১৭ জুন) সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ছোট বড় প্রায় আড়াই হাজার খামারে এবার কোরবানির জন্য পশু লালন পালন করা হচ্ছে। এসব পশুদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে- পাকচং ঘাস, কুড়া, ভূসি, খৈল, খড় ও ভাতের মাড়। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এসব পশু লালন পালন করছেন খামারিরা। শুধু তাই নয় কোরবানির হাটে বিক্রি করে কিছু টাকা লাভের আশায় প্রান্তিক পর্যায়েও এক দুটি করে কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে স্বল্প লাভেই তাদের পালিত গরু কোরবানির হাটে বিক্রি করে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত অধিকাংশ খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের।

এবারের ঈদ বাজারে বড় গরুর চাহিদার তুলনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদাই বেশি। বড় গরুর ক্রেতা কম। মাঝারি ও ছোট গরুর ক্রেতা বেশি। এসব গরু থেকে মোটামুটি লাভবান হওয়ার আশায় আছেন খামারিরা। তবে বিদেশি গরু দেশে না আসলে কিছু টাকা লাভের মুখ দেখতে পাবে গরু বিক্রেতারা। পশু খাদ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, শ্রমিকদের মজুরি বেশি থাকায় আশঙ্কা রয়েছে সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে। 

কিছু অসাধু খামারিরা অধিক লাভের আশায় কৃত্রিম উপায়ে ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করণ করলেও এবার প্রাণী সম্পদ অফিসের নজরদারি থাকায় তা করা হচ্ছেনা। পশু চিকিৎসকদের পরামর্শে কৃমি, ভিটামিন ও রোগের ওষুধ খাওয়ানো হলেও ক্ষতিকর ওষুধ কৃষকরা খাওয়াচ্ছেন না।

এ ছাড়া এ বছর ভৈরবে ৩টি কোরবানির পশুর হাটে প্রাণী সম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। যাতে অসুস্থ বা রুগ্ন কোন পশু হাটে বিক্রি করতে না পারে। তাছাড়া মানুষ যেন নিরাপদ মাংস পেতে পারে সার্বক্ষণিক হাটে মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। এবার ভৈরবসহ সারা দেশে কোরবানীর গরুর মাংস নিরাপদ থাকবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

উপজেলার আগানগর ছাগাইয়া গ্রামের খামারী শাকিল মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ২০২০ সাল থেকে খামারে গরু পালন শুরু করে আসছি। শুরুতে ১০টি ষাঁড় গরু লালন-পালন দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এবার শাহীওয়াল, সিন্ধি ও দেশী প্রায় ২০টি গরু কোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছি। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু পালন করছি। বিদেশি গরু দেশে না আসলে কিছু টাকা লাভের মুখ দেখতে পাব।  

পৌর শহরের জগন্নাথপুর এলাকার খামারী রমিজ উদ্দিন মিয়া বলেন, প্রায় ৪০টি গরু ছিল খামারে। ইতি মধ্যে ৩০টির মতো গরু বিক্রি করে দিয়েছি। খাদ্যের যে দাম যদি হাটে সঠিক দাম না পাই সেই শঙ্কায় অল্প লাভেই সব গরু বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বড় গরুগুলোর ক্রেতা কম। মাঝারি ও ছোট গরুতে লাভবান হওয়া যায়। চাহিদাও বেশি। 

লুন্দিয়া চরপাড়া এলাকার খুরশিদ মিয়া বলেন, কোরবানির জন্য সিন্ধি, ফ্রিজিয়ান ক্রস, নিলি রাভী ও দেশী ষাড়ঁসহ ১১টি গরু এবং ২২টি মহিষ লালন-পালন করেছি। খাবার দাম বেশি তাই বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়ার আগেই শঙ্কা কাটাতে পারছি না। ন্যায্যমূল্য না পেলে পথে বসতে হবে। করোনার পর থেকে গরু বিক্রি করে লাভবান হতে পারছি না। সর্বোচ্চ ৮০০ কেজি ওজনের গরু রয়েছে। ইতিমধ্যে গরুর ছবি ও ভিডিওসহ অনলাইনে বিক্রয়ের চাহিদা দিয়েছি। সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাই নাই।

খামারী জামাল মিয়া, ফজলু মিয়া, অতুল মিয়া, আক্তার মিয়া বলেন, খাবারের দাম বাড়ার কারণে গরুর ন্যায্য দাম পাবে কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। করোনার পর গত বছরেও লোকসান হয়েছে। এবার লোকসান পুষিয়ে নিতে আবারও গরু লালন-পালন করছেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ব্যয় যে হারে বেড়েছে তাতে করে আয় না বাড়ায় শঙ্কায় রয়েছে তারা। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান তরফদার জানান, এবার কোরবানি উপলক্ষে সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। সাতটি টিম ভৈরব উপজেলার খামামিদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছে। অসাধু উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ যাতে করতে না পারে সে দিকে নজরদারী করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে প্রাণিসম্পদ অফিস কর্মকর্তারা প্রতিটি খামারে গিয়ে খামারিদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছে। ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার্থে খামামিদের গরুর ছবি, নাম ঠিকানা, মোবাইল নম্বর দিয়ে ভৈরব অনলাইন কোরবানি ডিজিটাল হাট নামে ফেসবুক পেইজে গরু বেচা কেনার ব্যবস্থা করেছি। ক্রেতা বিক্রেতা এখানে চাহিদা মত কোরবানির পশু কেনা বেচা করতে পারবেন। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা