স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৩ ০৯:০৯ এএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩ ১৯:০৬ পিএম
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় আটঘর খালে নৌকার পসরা। প্রবা ফটো
বর্ষার আগমনে জমে উঠেছে পিরোজপুরের শত বছরের পুরোনো নৌকার হাট। জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের আটঘর খালে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে এই হাট।
হাটকে কেন্দ্র করে আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। জ্যৈষ্ঠ থেকে শুরু করে আশ্বিন পর্যন্ত নৌকা কেনা-বেচার ধুম পড়ে এ হাটে।
আষাঢ় মাসে শুরু হয় ভরা মৌসুম। তখন খালের পানিতে ভেসে চলে বাহারি নৌকার কেনা-বেচা। তবে এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় নৌকার দাম আশানুরূপ নয় বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
মো. রেজাউল নামে একজন বিক্রেতা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘৪ হাজার টাকার নৌকা ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রচুর নৌকা ওঠার কারণে দাম ঠিক পাচ্ছি না। এ বছর বৃষ্টি কম তাই আমরা লসে আছি।’
পেয়ারা ও আমড়া হাটে নেওয়ার জন্য নৌকা কিনতে এসেছিলেন বিধান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। এবার নৌকার দাম অনেক কম বলে তিনি জানান। নদীবিস্তৃত এলাকা ও কাঠের সহজ লভ্যতায় এ এলাকায় নৌকার চাহিদা ব্যাপক। চাম্বল, মেহগনি ও রেইন্ট্রি কাঠের নৌকা আসে এখানে। কথা হয় স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে।
তারা জানান, প্রতি সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার আটঘরের খালে বসে এ হাট। হাট ইজারা দিয়ে রাজস্ব আয় করে সরকার।
ইজারাদার আব্দুল রহিম বলেন, ‘আমরা এ হাট বছরে ডাকে কিনি। যারা নৌকা কেনে- দাম অনুযায়ী খাজনা রাখি।’
নৌকার স্থানীয় ব্যবহার বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুল্লহ মজুমদার বলেন, ‘বেশিরভাগ নৌকার দরকার হয় পেয়ারা, আমড়া, মাছ ধরা, গোখাদ্য সংগ্রহে। এ ছাড়া নার্সারি ব্যবসার বিভিন্ন কাজে নৌকার ব্যবহার হয়ে থাকে।’
খাল-নদীবেষ্টিত স্বরূপকাঠিতে প্রচুর আমড়া ও পেয়ারা হয়। এগুলো হাটে নেওয়ার প্রধান বাহন নৌকা। তা ছাড়া বর্ষায় মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন হয়ে ওঠে এই নৌকা। ফলে ধনী-গরিব প্রায় সবাই একটা নৌকা রাখে বা রাখার চেষ্টা করে।
স্বরূপকাঠি ভাসমান পেয়ারা হাটের জন্য বিখ্যাত। ভাসমান হাটের প্রধান অবলম্বন নৌকা। ভাসমান এই হাট সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মিডিয়ার কল্যাণে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পর্যটকদের আনাগোনায় স্থানীয় অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব এসেছে। ঢাকা থেকে সড়ক ও নদীপথে এসব ভাসমান হাটে যাওয়া যায়। সদরঘাট থেকে হুলারহাটগামী তিন-চারটি লঞ্চ যায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত।
ভাড়া ডেকে ২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ৯০০, ডাবল কেবিন ১ হাজার ৮০০ টাকা। লঞ্চ সাধারণত পরদিন সকাল পাঁচ-ছয়টায় পৌঁছে ইন্দুরহাট ঘাটে (নেছারাবাদ)। এখান থেকে ট্রলারে ১ হাজার ৫০০ টাকায় ছয়-সাত ঘণ্টা ঘোরা যায় বিভিন্ন ভাসমান হাটে। আটঘর বাজার, কুড়িয়ানা বাজার, ভীমরুলি বাজার বিশেষ উল্লেখযোগ্য ভাসমান হাট।
সড়কপথে ঢাকা থেকে আগে বরিশাল। এরপর বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে খুলনাগামী গাড়িতে ঝালকাঠির কীর্তিপাশা মোড়, সেখান থেকে অটোরিকশায় ভীমরুলি যাওয়া যায় ২০-৩০ টাকায়।