কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৩ ২০:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৩ ০৫:০০ এএম
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা জেটিতে ৬৪ হাজার ৭৭০ টন কয়লা নিয়ে বিশালাকার একটি জাহাজ ভিড়েছে। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা জেটিতে ৬৪ হাজার ৭৭০ টন কয়লা নিয়ে বিশালাকার একটি জাহাজ ভিড়েছে। বুধবার (১৪ জুন) সকালে ইন্দোনেশিয়ার তারাহান বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটি মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার জেটিতে ভিড়ে। এ নিয়ে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে দেড় মাসের ব্যবধানে কয়লাবাহী সর্ববৃহৎ চারটি জাহাজ ভিড়েছে। জাহাজগুলো এনেছে আড়াই লাখ টন কয়লা।
পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি জিসিএল পারাডিপ’ নামে জাহাজটি সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা জেটিতে ভিড়ে। জাহাজটি লম্বায় ২২৯ দশমিক ৯৯ মিটার ও সাড়ে ১২ মিটার ড্রাফটের। এরপর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জাহাজ থেকে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে কয়লা খালাস করা হবে। কয়লা খালাসে সময় লাগবে চার দিন।
এ ব্যাপারে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ জেটিতে ১১৬টি জাহাজ ভিড়লেও সেগুলোতে ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপকরণ। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল কয়লা নিয়ে এ পর্যন্ত এসেছে চারটি জাহাজ। সবমিলিয়ে জাহাজ ভিড়েছে ১২০টি।’
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ’এরই মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পুরোদমে উৎপাদনে যাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।’
এর আগে ২৫ এপ্রিল দেশের নৌবাণিজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাহাজ প্রবেশ করে মাতারবাড়ীতে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬৩ হাজার টন কয়লা নিয়ে ২২৯ মিটার দীর্ঘ ও ১২ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের গভীরতা) পানামার পতাকাবাহী ’এমভি অউসো মারো’ মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের আসে।
পরদিন বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে জাহাজটি বিশেষ নজরদারির মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে আনা হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাহাজ। একই সঙ্গে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য প্রথম কয়লা নিয়ে আসা জাহাজ। জাহাজটি সফলভাবে কয়লা খালাস করে ৭ মে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে মাতারবাড়ী ত্যাগ করে।
এরপর ১৯ মে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ২২৯ মিটার লম্বা ও ১২ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের আরও একটি জাহাজ মাতারবাড়ী বন্দরে নোঙর করে। ওই মাসে আরও তিনটি জাহাজ কয়লা নিয়ে ভিড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা জেটিতে।
এ ব্যাপারে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বুধবার সকালে কয়লাবাহী জাহাজটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা জেটিতে ভিড়েছে। এটা কয়লা নিয়ে ভেড়া চতুর্থ বড় জাহাজ। তবে এর চেয়ে বড় কোনো জাহাজ এখনও ভিড়েনি। শুরুতে ২৫ এপ্রিল বড় একটি জাহাজ আসে। এরপর মে মাসে আরও চারটি জাহাজ কয়লা নিয়ে মাতারবাড়ী আসে।’
এদিকে এ বন্দরে সবচেয়ে বড় জাহাজ ‘এমভি অউসো মারো’ ভিড়িয়ে গভীর সমুদ্রবন্দরের অনুমোদন পেয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ‘দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণামতে নির্দিষ্ট সময়ে কয়লা নিয়ে জাহাজ এসেছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোদমে চালু হলে দেশের অর্থনীতিসহ বেশ কয়েকটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অনুমোদন পাওয়া ‘মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার’ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে আগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার (জাইকা) দেওয়ার কথা ছিল ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এবার সেই ঋণ বাড়িয়ে জাইকা মোট দিচ্ছে প্রায় ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর প্রকল্পটিতে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ১ হাজার ৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরেই মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।