পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:১০ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৩১ পিএম
স্বজন হারিয়ে ব্যাকুল পরিবার। ছবি : প্রবা
পঞ্চগড়ের করতোয়ায় তীর্থযাত্রার নৌকা ডুবিতে মৃত্যু বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বজনদের দাবি, এখনও ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের খোঁজে কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় লোকজনসহ রংপুর, রাজশাহী ও কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যু হলেও এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপঙ্কর রায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রবিবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বরদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার পথে এই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্ঘটনায় পড়েন। ওই দিন দুপুরের দিকে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। তারপর রাত ১১টা পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন। গভীর রাতে একজন এবং সোমবার ভোর থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আরো ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়ার ঘাট, দেবীগঞ্জ করতোয়া সেতু ও দিনাজপুরের খানসামা সেতু এলাকা থেকে এসব লাশ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোলেমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় নৌকাটি মাঝনদীতে ডুবে যায়। যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অনেকে নিখোঁজ হন। নৌকাডুবির পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে যোগ দেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা এসে স্থানীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
রবিবার ২৫ জনের লাশ উদ্ধারের পর রাতে উদ্ধার অভিযান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। রাজশাহী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দলও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শেখ মাহবুব ইসলাম জানান, সকালে করতোয়া এবং আশপাশের দিনাজপুরের আত্রাই নদীর বিভিন্ন স্থানে মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, মৃত ব্যক্তিদের সৎকার ও দাফন প্রক্রিয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে ১ লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মৃত ৫০ জনেরই বাড়ি পঞ্চগড়ে। তারা হলেন হাশেম আলী (৭০), শ্যামলী রানী (১৪), লক্ষ্মী রানী (২৫), অমল চন্দ্র (৩৫), শোভা রানী (২৭), তিন বছরের দিপঙ্কর, আড়াই বছরের পিয়ন্ত, দুই বছরের সুব্রত, রুপালি রানী (৩৫), প্রমিলা রানী (৫৫), ধনবালা (৬০), সুনিতা রানী (৬০), ফাল্গুনী (৪৫), প্রমিলা দেবী, জ্যোতিশ চন্দ্র (৫৫), তারা রানী (২৫), সানেকা রানী (৬০), সফলতা রানী (৪০), বিলাশ চন্দ্র (৪৫), শ্যামলী রানী ওরফে শিমুলি (৩৫), উশষী (৮), তনুশ্রী (৫), শ্রেয়সী, প্রিয়ন্তী (৮), সনেকা রানী (৬০), ব্রজেন্দ্রনাথ (৫৫), ঝর্না রানী (৪৫), দীপ বাবু (১০), সূচিত্রা (২২), কবিতা রানী (৫০), বেজ্যে বালা (৫০), দিপশিখা রানী (১০), জগদীশ (৩৫), যতি মিম্রয় (১৫), গেন্দা রানী, কনিকা রানী, সূমিত্রা রানী, আদুরী (৫০), পূষ্পা রানী, প্রতিমা রানী (৫০), সূর্যনাথ বর্মন (১২), হরিকেশর বর্মন (৪৫), নিখিল চন্দ্র (৬০), সুশীল চন্দ্র (৬৫), যুথি রানী (০১), রাজমোহন অধিকারী (৬৫), রুপালী রানী (৩৮), প্রদীপ রায় (৩০), পারুল রানী (৩২) ও প্রতীমা (৩৯)।
প্রবা/রাই/টিকে/এমআই