রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৩ ১৭:৪২ পিএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৩ ১৭:৫৭ পিএম
গণশুনানিতে সেবাগ্রহীতারা নিজেদের অভিযোগ জানাচ্ছেন। প্রবা ফটো
রংপুরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মতামত জানতে সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের নিয়ে গণশুনানি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গণশুনানিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি-বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও ভূমি অফিসের সেবা নিয়ে বেশি অভিযোগ করেন সেবাগ্রহীতারা।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই গণশুনানিতে উঠে আসে বিচিত্র ধরনের সব অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা।
রংপুর নগরীর বাসিন্দা জোবাইদুল ইসলাম বুলেট অভিযোগ করেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সব যন্ত্রপাতি বিকল রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে রোগীদের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এতে করে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ ছাড়া সরকার হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় খরচ করতে না পারায় ৮ কোটি টাকা ফেরত গেছে। হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ না করায় রোগীদের সেসব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। উপকরণ কিনতে না পারায় গত ৯ মাসে ৩৮ জন রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ করেন নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার লিয়াকত আলী বাদল।
৭ মাস আগে ব্যাংকে টাকা জমা দিলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাননি রংপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীরহাটের আবুল কালাম আজাদ। বাহার কাছনার আব্দুল হালিম ২০২০ সালে পেশাদার লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দিয়ে পাস করলেও তাকে অপেশাদার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তা সংশোধনের জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে সে আবেদন নেওয়া হয়নি। ভূমি অফিসে খারিজে হয়রানি, খাজনা দিতে না পারা, সিটি করপোরেশনের অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ, নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা, জাতীয় পরিচয়পত্রের হালনাগাদ তালিকায় জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো, জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে কাজীর লাইসেন্স নেওয়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করলেও মাধ্যমিক শিক্ষার উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে বেতন ছাড় না করাসহ নানা অভিযোগ উঠে আসে গণশুনানিতে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের সচিব মো. মাহবুব আলম। এ সময় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন, রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এএফএম আঞ্জুমান কালাম, জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন, জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের সচিব মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সম্মিলিতভাবে আমাদের এটি প্রতিরোধ করতে হবে। আজ সেবাপ্রার্থীরা বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। আমরা সেবাগ্রহীতার সেবা কেন নিশ্চিত হচ্ছে না—এ বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের কাছে জানিয়েছি এবং সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আজকে উত্থাপিত সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমাধান করছে কি না, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি থাকবে। যদি কোনো দপ্তর সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
গণশুনানিতে বিআরটিএর ছয়টি, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাতটি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের চারটি, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের একটি, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দুটি, উপপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের চারটি, সিটি করপোরেশনের আটটি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দুটি, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০টি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুটি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদর উপজেলা মৎস্য অফিস, পাসপোর্ট অফিস, উপজেলা সমাজসেবা অফিস, গণপূর্ত অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়, বরেন্দ্র প্রকল্প-২, রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কাস্টম এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট, নেসকো, সেটেলমেন্ট, রূপালী ব্যাংক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৭৭ জনের অভিযোগের গণশুনানি করা হয়।