প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ১৬:০৬ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৩ ১৭:৫৯ পিএম
মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। প্রবা ফটো
বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট দেন ভোটাররা। দুই সিটির মধ্যে খুলনায় অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে উত্তাপ ছড়িয়েছে বরিশালে। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হাতে রক্তাক্ত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন অন্য মেয়র প্রার্থীরাও। তবে ভোট শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে ‘শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ পরিবেশে নির্বাচন হওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন থেকে সকাল থেকেই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.), বেগম রাশেদা সুলতানা ও মো. আলমগীর সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করেন। ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে স্বস্তির কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান। তিনি জানান, ইভিএমে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কোথাও বিশৃঙ্খলাও নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন পরিস্থিতি সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
ফয়জুল করীমের ওপর হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের ওপর যে ব্যক্তি হামলা করেছে, তাকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে শাস্তি পেতেই হবে।
ভোটকে কেন্দ্র করে সোমবার দিনভর বরিশাল নগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘুসিতে রক্তাক্ত হন ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। এ ঘটনায় নগরীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেখান থেকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান হাতপাখার এই প্রার্থী।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হাজেরা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফয়জুল করীমের ওপর হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থলে থাকা দলটির কর্মী শফিকুল ইসলাম ও আবদুর রহিমের অভিযোগ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আওয়ামী লীগের একজন নারী কর্মীর ব্যাগে হাত দিয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা কার্ড টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন। এ সময় ওই নারী কর্মীর শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত লাগে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে ফয়জুল করীমকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এর প্রায় আধঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন মুফতি ফয়জুল করীম। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কেন্দ্রে অনিয়ম হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লোকজন তার এজেন্টদের বের করে দিচ্ছেন। এমন খবর পেয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সরকারি দলের কর্মীদের হামলার মুখে পড়েন। তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বহিরাগতদের নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। ফলে তারা মুফতি ফয়জুল করীমকে বুঝিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন।
ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনায় নগরীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুখোমুখি অবস্থান নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. আফজালুল করিম অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শহরে ঢোকার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ, নগরীর প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই ফয়জুল করীম সদলবলে ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন।
বরিশালে জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, নগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাজীপাড়া কেন্দ্রে ছাত্রলীগের কর্মীরা নারী ভোটারদের বাধা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ছেলেরা রাস্তা থেকে ভোটারদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। তারা বলছে, আপনাদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই।
ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, আমাদের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এনেছেন কেন? স্ট্যাম্প সাইজ লাগবে। এভাবে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন তারা। আমি ভোট দিতে গেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলেনি, তখন প্রিসাইডিং অফিসার সহায়তা করায় ভোট দিতে পেরেছি।
বরিশালের স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী কামরুল আহসান রুপনও দুটি কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুটি কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেখানে বলা হচ্ছে, এজেন্ট কার্ডে প্রার্থীর স্বাক্ষর নাহলে হবে না। কিন্তু আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্টের স্বাক্ষর রয়েছে সেখানে। আবার বলা হচ্ছে, রাতে এজেন্টদের ফরম কেন দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমি জানি ভোটগ্রহণের আগে এজেন্ট ফরম দিলেই হয়। খবর পেয়ে আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্টকে পাঠানো হয়েছে।’
খুলনায় নির্বাচনী উত্তাপ অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল। তার অভিযোগ, কিছু জায়গায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে হাতপাখায় ভোট দিলেও সে ভোট চলে যাচ্ছে নৌকায়। তবে তার এমন অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।