খুলনায় মেয়রপ্রার্থী আউয়ালের অভিযোগ
খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৩ ১৫:৪০ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৩ ১৬:২২ পিএম
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল ও জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। হাতপাখা প্রতীকের আউয়ালের অভিযোগ, হাতপাখায় ভোট দিলেও সে ভোট চলে যাচ্ছে নৌকায়। আর লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর দাবি, কেন্দ্রে তার এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইভিএমে ভোট কারচুপির আশঙ্কাও করেছেন তিনি। তবে এসব ছাড়িয়ে ভোট সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রার্থীই। অপরদিকে ভোটের পরিবেশে সন্তুষ্টি জানিয়ে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী নৌকার প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকও।
এদিকে দুই মেয়র প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলছেন, তিনি অন্তত ৫০টি ভোট কেন্দ্রে ঘুরেছেন। তবে এসবের কোনো অভিযোগই তিনি পাননি। তবে প্রার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভোট ‘কারচুপির’ অভিযোগ তুলে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় হাতপাখায় ভোট দিলে নৌকা আসছে, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। খালিশপুর ১২ নম্বর ওয়ার্ডে একটা কেন্দ্রে হাতপাখায় টিপ দিলে নৌকা আসছে। কিছু কিছু মেশিনে বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। মেশিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ঠিকমতো কাজ করছে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এ সরকারের সময়ে আগের নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে।’ সেজন্য এবারেও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হাতপাখা প্রতীকের এই প্রার্থী। আর সুষ্ঠু ভোটে জনগণ যে রায় দিবে, তা মেনে নেবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অপরদিকে অনেক কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়া ও ইভিএমে ধীরগতির অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, ‘বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটের ধীরগতিতে ভোট নষ্ট হচ্ছে। নয়াবাটি, পল্লীমঙ্গল ও মোল্লাপাড়া সরকারি স্কুল কেন্দ্রে ইভিএম কাজ করছে না। এক হাজার ৭৩২টা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৭০০টি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পেরেছি। তারপরও কিছু কিছু কেন্দ্রে আমার এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’
এদিকে ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘সকাল থেকেই কয়েকটি কেন্দ্রে আমি ঘুরেছি। ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো দেখেছি। সুন্দর ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে। যেভাবে ভোট হচ্ছে, সেটাতে মনে হয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। কাজেই ভোটার নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।’ তাই ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ ভোট কাস্ট হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিক কারণেই দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী নৌকার এই প্রার্থী ভোটের ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বলেন, ‘ভোটারদের ভোটে ফলাফল যাই হোক না কেন মেনে নেব।’
মেয়র প্রার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি অন্তত ৫০টি কেন্দ্র ঘুরেছেন। তবে কোথাও কোনো অভিযোগ পাননি। ভোটের পরিবেশ নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই। ইভিএমে সমস্যা নিয়ে কোনো খবর পাননি বা কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।