ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৩ ২০:৫৮ পিএম
রোজিনা আক্তার। প্রবা ফটো
দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে ফরিদপুরের রোজিনা আক্তার নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গত দুই মাস আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হলেও এখন আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রোজিনার বাবা-মা দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
ফরিদপুর শহরের অম্বিকাপুর রেললাইন এলাকার দিনমজুর ইউনুস ফকিরের ১ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে রোজিনা ছোট। ৮ বছর আগে পোশাক কারখানায় কাজের সন্ধানে রোজিনা ঢাকায় যান। তখন তিনি একটি কারখানায় কাজ করতেন। কাজের সুবাদে রোজিনার সঙ্গে শেরপুর জেলার ট্রাকচালক ওসমানের পরিচয় হয়। ৬ বছর আগে ওসমানের সঙ্গে রোজিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রোজিনার ওপর অত্যাচার চালাতো ওসমান। ফলে শিশু সন্তানকে নিয়ে রোজিনা বাবার বাড়ি ফরিদপুরে চলে আসেন।
পরিবার জানায়, রোজিনা ঢাকায় থাকাকালে হানিফ নামে এক মানব পাচারকারীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তার। হানিফ ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রোজিনাকে সৌদি পাঠানোর কথা বলে। দালালের কথায় রাজি হয় রোজিনা। পরিবারের অমতে দুই বছর আগে সৌদি চলে যান গৃহকর্মী ভিসা নিয়ে। সৌদি গিয়ে রোজিনা মাঝে মধ্যে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন, সন্তানের খোঁজও নিতেন। দালালের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কথা বললেও রোজিনার পরিবার দালালের কোনো ঠিকানা না জানাতে তারা টাকা আনতে পারেনি।
এদিকে দুই মাস আগে সবশেষ রোজিনার কথা হয় মা হাসিনা বেগমের সঙ্গে। তখন ফোনে তার মাকে বলেছিলেন, তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তিনি আর বিদেশে থাকতে চান না। শিগগিরই দেশে চলে আসবেন। এরপর থেকেই আর কোনো খোঁজ নেই রোজিনার। যে মোবাইল ফোনে রোজিনা কথা বলতেন সেই ফোনটি এখন আর কেউ ধরে না। সন্তানের খোঁজ না পেয়ে এখন বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে রোজিনার বাবা-মা।
রোজিনার মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমি অনেক মানা করছি বিদেশ যাইতে। সে আমাদের কথা শোনেনি। দালাল তাকে বাড়ি করে দিবে, অনেক টাকা পয়সার লোভ দেখাইয়া বিদেশে পাঠাইছে। এখন আমার মাইয়াডার কোনো খোঁজ নাই। আমি কার কাছে গিয়ে খোঁজ নিমু, কই যামু, দেশে হইলে খুঁজতাম। বিদেশে কুনহানে আছে, আমার মাইয়াডা বাঁইচা আছে না-কি তাকে মাইরা ফালাইছে তাও জানি না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার মাইয়াডারে যাতে আমার কাছে ফিরাইয়া আইনা দেয়।’
রোজিনার বাবা ইউনুস ফকির বলেন, ‘আমি ছোট কাজ করি। আমার বউ বাসা-বাড়িতে কাজ করে। দুজনের টাকা দিয়া সংসার চালাই। আমার মেয়েকে যে দালাল বিদেশ পাঠাইছে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি আমার মেয়েকে জীবিত কিংবা লাশ হলেও ফেরত চাই। যাতে আমার মেয়েকে শেষবারের জন্য হলেও একটু দেখে পরানডা জুড়াইতে পারি।’