কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৩ ০৯:৩১ এএম
দৃষ্টিনন্দন কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়ক। প্রায় ১৮ কিলোমিটারের এ সড়কে বেড়াতে গিয়ে বিমোহিত হচ্ছেন সবাই। প্রবা ফটো
পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রাঙামাটির দৃষ্টিনন্দন কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়ক। এক পাশের কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি ও অন্য পাশের সবুজ পাহাড়ের মিতালিতে একাকার হয়ে আছে সড়কটি। প্রায় ১৮ কিলোমিটারের কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়কে বেড়াতে গিয়ে বিমোহিত হচ্ছেন সবাই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু নান্দনিক স্থাপনা গড়ে তোলায় বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে সড়কটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বড়গাঙ, রাইন্যা টুগুন, বেরান্নে লেক এবং বর্গি লেক ভ্যালি নামে কয়েকটি বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্র। যেগুলো ছুটির দিনসহ প্রায় সময়ই পর্যটকে মুখরিত থাকে। বৌদ্ধদের ধর্মীয় গুরু ও পরিনির্বাণ প্রাপ্ত মহাসাধক সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তের) জন্মস্থানের স্মৃতি মন্দির রয়েছে এখানে।
রয়েছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের জীবনধারা দেখার সুযোগও। বৌদ্ধ মন্দিরটিতে প্রায় প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক ভিড় জমান এবং প্রার্থনা করেন। এ ছাড়া সড়কটি কাপ্তাই উপজেলার সঙ্গে রাঙামাটি জেলার দূরত্ব অনেক কমিয়েছে, যার ফলে অধিকাংশ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটির সদর অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুনে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ফলে সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কে তিনটি নতুন সেতু নির্মাণ এবং সড়কটিকে দুই লেন করার প্রকল্প হাতে নেয়। বর্তমানে যা অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি জুন মাসের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাঙামাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি বলেন, রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই যেতে এটিকে বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সড়কটির কারণে রাঙামাটি থেকে কাপ্তাইয়ের দূরত্ব প্রায় ২০ কিমি কমে গেছে। এ ছাড়া সড়কটি বর্তমানে দুই লেনে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে রাঙামাটিতে আগত টুরিস্টদের জন্য খুবই আকর্ষণীয় একটি স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এটি। সেই সঙ্গে এই সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বরাদম এলাকায় নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে লাভ পয়েন্ট; যা এরই মধ্যে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাঙামাটিতে আগত পর্যটকরা এই সড়ক দিয়ে ভ্রমণ করলে লেক এবং পাহাড়ের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন।
কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন রুনেল চাকমা, স্বপন মহাজন, সুমিত্রা ত্রিপুরা। তারা জানান, সড়কটি যেমন দেখতে অনেক সুন্দর তেমনি এটি তাদের অনেক দুঃখ দূর করেছে। বিশেষ করে একসময় তাদের কাপ্তাই নতুন বাজার থেকে রাঙামাটি শহরে পৌঁছাতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লেগে যেত। অথচ এখন এই সড়ক দিয়ে তারা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছাতে পারেন। এতে যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন তারা খুবই উপকৃত হচ্ছেন। সড়কটি মাঝখানে কিছু দিন চলাচলের অনুপযোগী ছিল। কিন্তু বর্তমানে সড়কটি নতুন করে উন্নীত করার ফলে যাতায়াত স্বাভাবিক হয়েছে।
ঢাকা শহর থেকে রাঙামাটিতে ঘুরতে আসা পর্যটক ইকবাল ও মাইসুন মাহিয়াসহ বেশ কয়েকজন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কটির ভিডিও দেখে তারা এখানে এসেছেন। এখানকার অপূর্ব লেক পাহাড় দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়কে পর্যটক যত বাড়বে দৃষ্টিনন্দন নতুন নতুন স্থাপনাও তত বাড়বে। এতে এখানকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার আরও উন্নয়ন ঘটবে।