নাটোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৩ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ১০ জুন ২০২৩ ১৮:৫১ পিএম
উদ্ধার হওয়া নবজাতক। প্রবা ফটো
নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে নার্সের ছদ্মবেশে চুরি করে নিয়ে যাওয়া নবজাতককে কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে চুরির সঙ্গে জড়িত নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১০ জুন) সকালে গ্রেপ্তার আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কুষ্টিয়া জেলার পোড়াদহ থানার খাজানগর গ্রাম থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।
নাটোর পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী হাসনা হেনা নাটোর সদর হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ভর্তি হয়। ওই দিন সকাল ১০ টার দিকে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন হাসনা হেনা। শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে একজন নারী নার্সের অ্যাপ্রোন ও মুখে মাস্ক পরে ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। পরে ওই শিশুটিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে ওই শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে খোঁজ করেও ওই নবজাতকের আর সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ সুপার জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম গঠন করা হয়। পরে সিটিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত হয় তিনি কুষ্টিয়া জেলার খাজানগর গ্রামের আরিফুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. কাজলীকে। শুক্রবার রাতে নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার ভাড়া করা বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ কুষ্টিয়ার পোড়াদহ থানার খাজানগর গ্রামের এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
মা হাসনা হেনা বলেন, ‘আমার সন্তানকে ফিরে পেয়ে আমি কী পেলাম, কী সুখ অনুভব করছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমি নাটোরের পুলিশ ও মিডিয়ার প্রতি চির-কৃতজ্ঞ থাকব।’
বাবা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নাটোরবাসীর দোয়া ও পুলিশের আন্তরিকতায় আমরা আমাদের সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। আমি মিডিয়ার কাছেও চিরকৃতজ্ঞ।’
পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবারই নাটোর থানায় মামলা হয়েছে।