টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৩ ১২:২২ পিএম
টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের রাস্তার দুপাশের বড় বড় গাছ কাটা হচ্ছে। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়ক ‘উন্নয়ন’ কাজের জন্য কাটা হচ্ছে রাস্তার দুপাশের ২ হাজার ৩৭৯টি গাছ। এর মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি, বটসহ অসংখ্য শতবর্ষী ফলদ ও বনজ গাছ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গাছ কাটা হয়েছে। বাকিগুলোও কাটা হচ্ছে। উন্নয়নের নামে এসব গাছ কাটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মী ও স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ৫৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩৩ ফুট প্রশস্ত মহাসড়ক উন্নীতকরণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। যার মধ্যে টাঙ্গাইল অংশের দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার এবং মানিকগঞ্জ অংশের দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। মহাসড়কটি ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) এ প্রকল্পটি অনুমোদন হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, টাঙ্গাইল শহরের কাগমারী মোড় থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে গাছ কাটা চলছে। এর মধ্যে শতবর্ষী আম, মেহগনি ও বটগাছও রয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, পুরোনো গাছগুলো কাটার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গাছগুলো দেখতে অনেক সুন্দর ছিল। পথচারী ও স্থানীয়রা গাছতলায় বসে শান্তি পেত।
পরিবেশকর্মী নওশাদ রানা সানভী বলেন, ‘গাছগুলো ছায়া দিত, ফল দিত। বর্তমানে তাপমাত্রা অনেক, এক মিনিটও রাস্তায় দাঁড়ানো যায় না। জমিদার আমলের গাছগুলো কাটা হচ্ছে। গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান, এটা শুধু স্লোগানেই আছে। কয়টা গাছ লাগাই, শুধু কাটতেই পারি আমরা।’
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ খান ভাসানী বলেন, ‘ইদানীং গাছ কাটা, খাল-বিল ও পুকুর ভরাটের মহোৎসব চলছে। উত্তরের মরুকরণ কোন পর্যায়ে চলে গেছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ১০০ বছরেও গাছগুলো তৈরি করতে পারব না। অর্থাৎ প্রকৃতির যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে তার তুলনায় আমাদের উন্নয়ন কিন্তু নগণ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই পুরোনো গাছগুলো আর দেখতে পাবে না। পরিবেশের স্বার্থে ভবিষ্যতে যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গাছ রেখেই যাতে বাস্তবায়ন করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখা উচিত।’
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল হোসেন জানান, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এজন্য গাছগুলো কাটা হচ্ছে। বৃক্ষপালন বিভাগ টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করেছে।
বৃক্ষপালন বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মুকুট আবু সাঈদ বলেন, ‘মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া সড়কে কাটা হচ্ছে ১ হাজার ৩৭০টি গাছ। এগুলোর জরিপমূল্য ধরা হয়েছিল ১৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। একই প্রকল্পের আওতায় আরিচা-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর সড়কে কাটা হচ্ছে আরও ১ হাজার ৯টি গাছ। এগুলোর জরিপমূল্য ধরা হয়েছিল ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।