শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৩ ১৬:৪০ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৩ ১৭:৪১ পিএম
গ্রামের শিশু-কিশোররা ব্যাঙের বিয়ের উপলক্ষে রান্ন করছে। প্রবা ফটো
বাংলা ঋতুতে এখন মধুমাস জৈষ্ঠ্য। তবে তাপপ্রবাহের প্রভাবে মানুষের মধ্যে মধুভাব নেই। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। দেখা নেই বৃষ্টির। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির আশায় লোকজ রীতির আশ্রয় নিয়েছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার মানুষজন। বুধবার (৭ জুন) উপজেলার বড় পাগলা গ্রামের নায়েবের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো ব্যাঙের বিয়ে।
মজার বিষয় এমন আয়োজন কোনো যুবক বা বৃদ্ধ মানুষজন করেননি। পুরোটাই প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থীর পরিকল্পনা। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলো সিয়াম আহমেদ, শান্ত ও রীনা আক্তার। তারা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানায়, বর ব্যাঙের নাম দেওয়া হয়েছে মেঘ। আর কনের নাম রাখা হয়েছে বৃষ্টি। শাড়ি, কাপড় পরিয়ে সাজানো হবে বর-কনেকে। টিপ পরিয়ে ও আলতা দিয়েও সাজানো হবে কনে ব্যাঙ বৃষ্টিকে। বিকালে গায়ে হলুদের পর্ব শেষ করে অনুষ্ঠানিকভাবে বরযাত্রী নিয়ে কনে বৃষ্টির বাড়িতে আসবে বর পক্ষ। বাড়ি বাড়ি থেকে উঠানো হয় চাল, ডাল, তেল। এগুলো দিয়ে রান্না করা হচ্ছে খিচুড়ি। খিচুড়ি খাওয়া-দাওয়া শেষে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। ব্যাঙের এ বিয়ে দেখতে জড়ো হয়েছে উৎসুক নারী-পুরুষ।
এ আয়োজন দেখতে আসা নকলা শহরের বাসিন্দা শামসুল আরেফিন বলেন, 'ব্যাঙের বিয়ের কথা পেপার পত্রিকায় কেবল পড়েছি। কিন্তু বাস্তবে কখনও দেখেনি। আজ দেখলাম।'
স্কুল শিক্ষার্থী তাসনুভা দিয়া বলেন, 'চমৎকার লেগেছে এ আয়োজন। পুরোপুরি বিয়ের এরেঞ্জ ছিল এইটা। আমরা বান্ধবীরা উপভোগ করলাম ব্যাঙের বিয়ে।'
আয়োজক কমিটির সদস্য সোহেল রানা জানায়, অনাবৃষ্টি ও খরা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে শিশুরা এই ব্যাঙের বিয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা পরে উৎসবে রূপ নেয়। বড়রাও যোগ দেন। গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতেই আমাদের এ আয়োজন।
স্থানীয় নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, লোকজ বিশ্বাস থেকে আবহমান বাংলার এটি একটি সাংস্কৃতির অংশ। এমন লোকজ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।