কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৩ ১৫:১০ পিএম
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলে প্রতিবছর আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারসসহ দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ভালো উৎপাদন হয়ে থাকে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও রপ্তানি হয়। সম্প্রতি কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি, নতুন বাজার, জেটিঘাট বাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় দেখা গেছে, হারেক রকমের মৌসুমী ফলের ছড়াছড়ি, চলছে রমরমা ব্যবসা।
ফলের দোকানগুলোতে আম, জাম, আনারস, লিচু এবং কাঁঠালের স্তুপ। সাজানো রয়েছে বিভিন্ন জাতের আম। যা আলাদা করে নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। আগামী কয়েক মাস বাজারজুড়ে মৌসুমী ফলের মধ্যে আমের আধিপত্য থাকবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান।
বড়ইছড়ি বাজারে ফল বিক্রি করেন আমজাদ আলী। তিনি জানান, তার প্রতিটি আড়তে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ আমের সমারহ রয়েছে। এবার কাপ্তাইয়ে আমের ফলন বেশি হওয়াতে আম ব্যবসায় বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। তার দোকানে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, হিমসাগর, গোপালভোগ, লবনা, ল্যাঙড়া, মধুমতি, গুটি আম রয়েছে বিপুল পরিমাণ। সেই সাথে স্থানীয় দেশী জাতের আমও তিনি বিক্রি করে থাকেন বলে জানান।
নতুন বাজারের ফল ব্যবসায়ী সোলাইমান জানান, এবছর তাপদাহের কারণে বেশি ফল বিক্রয় হচ্ছে। তবে লিচু বিক্রয় অনেকটা কমে গেছে। ক্রেতারা আম, জাম এবং আনারস বেশি কিনছেন। দামের বিষয়ে তিনি জানান, ভালো জাতের আম বিক্রয় হচ্ছে কেজিতে ৮০-১০০ টাকা, জাম বিক্রয় হচ্ছে কেজিতে ১০০-১২০ টাকা, আনারসের আকার ভেদে বিক্রয় হচ্ছে জোড়া ৪০-৫০ টাকা, ভালো জাতের লিচু বিক্রয় হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়।
জেটিঘাট এর আরেক ফল ব্যবসায়ী সুনীল দাশ জানান, এখন ক্রেতারা আপেল, কমলা, আঙ্গুর, মাল্টা কিংবা বিদেশী ফল কিনতে তেমন আগ্রহী না। মৌসুমী ফল বাজারে আসাতে এবং মোটামুটি সাশ্রয়ী দাম থাকায় নিম্মবিত্ত কিংবা বিত্তবানরা সকলে মৌসুমী ফল কিনছেন।
আত্মীয়ের বাড়ির জন্য আম কিনতে বড়ইছড়ি বাজারে এসেছেন সুজন দে। তিনি জানান, ১০ কেজি আম্রপালি জাতের আম কিনেছেন ৯০ টাকা দরে। এছাড়া জানে আলম, মো. শফিক, রতন দাশসহ বেশকয়েকজন ক্রেতা জানান, এবার মৌসুমী ফলের চাহিদা ভালো। ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি সাশ্রয়ী দামে কেনা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরান আহমেদ জানান, প্রায় প্রতিবছর উপজেলায় মৌসুমী ফলের ভালো উৎপাদন হয়ে থাকে। বিশেষ করে এখানকার আম, আনারস, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের সুনাম ও খ্যাতি দেশজুড়ে রয়েছে।