কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন
কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৩ ১৮:০০ পিএম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৩ ১৮:৩৩ পিএম
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজন মেয়রপ্রার্থীকে শনিবার হাতে হাত রেখে ওয়াদা করান নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব। প্রবা ফটো
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ জুন। এতে মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন পাঁচজন। গত ২৬ মে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত নিজ-নিজ প্রচারে। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের পরিবেশ ও ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তাই এ পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগে সাংবিধানিক সংস্থাটির এক কমিশনার দেখালেন অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজন মেয়রপ্রার্থীকে একে অপরের হাতে হাত রেখে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার ওয়াদা করালেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান।
শনিবার (৩ জুন) দুপুর ১২টায় কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি ও ইনস্টিটিউটের শহীদ সুভাষ হলে পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন-২০২৩ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন কার্যালয় আয়োজিত এই সভা ছিল নির্বাচনের আচরণবিধি প্রতিপালন বিষয়ে। এতে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের সব প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার আগে পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজন মেয়রপ্রার্থীকে ডেকে কথা বলেন ইসি আহসান হাবিব। পরে প্রার্থীদের একে অপরের হাতে হাত রেখে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য ওয়াদা করান তিনি।
এ সময় প্রার্থীদের উদ্দেশে আহসান হাবিব বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের। ইলেকশন (নির্বাচন) কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী? তা কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে দেখিয়ে দেবে কমিশন। চলবে না পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাব। কোনো এজেন্ট বা সমর্থক ভোটারদের ভোটদানে প্রভাবিত করলে গ্রেপ্তার করা হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বাতিল করা হবে প্রার্থিতা। নির্বাচনে পাঁচজন মেয়র প্রার্থীসহ ৭৭ প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে মেয়রপ্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মাসেদুল হক রাশেদ, রাশেদের স্ত্রী জোছনা হক, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মো. জাহেদুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়া।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের সব সময় প্রত্যাশা, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হোক। পেশিশক্তির ব্যবহার, কালো টাকা বিতরণ বন্ধ রাখা জরুরি। কমিশনার আমাদের কাছে ওয়াদা চেয়েছেন। আমরা ওয়াদা দিয়েছি। এখন এই ওয়াদা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।’
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ বলেন, ‘এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়েছে। এটা রক্ষার জন্য সবাই ওয়াদা দিয়েছি। সবাই মিলে ওয়াদা রক্ষা করলেই পরিবেশ সুন্দর থাকবে। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে আমি বিজয়ী হব।’