ফয়সাল খান
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৩ ০০:৪৯ এএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৩ ১১:৩০ এএম
আজমত উল্লা খান। সংগৃহীত ছবি
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন আজমত উল্লা খান। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এবং গাউকের দুজন সদস্য এই তথ্য জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের সচিবও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামী রবিবার তিনি গাউকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেনÑ ‘হ্যাঁ, নিয়োগ দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’ আজমত উল্লা খান চেয়ারম্যান হচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনও হয়নি, তবে হতে পারেন।’
২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হোসেনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে গাউক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনিই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে সচিবালয়ে দুটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনও কোনো বোর্ড গঠন হয়নি।
এদিকে বোর্ড গঠন না হওয়ায় স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে সভাগুলো করা হয়েছে। এই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন হওয়ার শুরু থেকে যুক্ত আছেন এমন দুজন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বললে তাদের একজন জানান, আজমত উল্লা খানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। যেকোনো সময় তিনি নিয়োগ পেতে পারেন।
এদিকে গত বুধবার গাজীপুরে এক সভায় আজমত উল্লা খানকে গাজীপুর নগরবাসীর উন্নয়নে অবদান রাখতে সরকারি দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। কোন পদে বসানো হচ্ছে তা সরাসরি উল্লেখ না করলেও দুই-চার দিনের মধ্যে আজমত উল্লা সরকারি দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শুক্র-শনি তো ছুটির দিন। রবিবার সবাই জানতে পারবেন।
আজমত উল্লা গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের কাছে পরাজিত হন। এর আগে ২০১৩ সালে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির অধ্যাপক এমএ মান্নানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তা ছাড়া টঙ্গী পৌরসভায় একটানা ১৮ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যও ছিলেন আজমত উল্লা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬’-এর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা টঙ্গী এলাকা গাউকের অধীনে চলে যাবে। তা ছাড়া নতুন এই কর্তৃপক্ষ শুধু গাজীপুর মহানগর এলাকা নিয়ে কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে এ কর্তৃপক্ষের বিস্তৃতি পুরো জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ হলে পাশের জেলার কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছাড়াও তিনজন সদস্য থাকবেন। তা ছাড়া এতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন। এই কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করবে। মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে এমন কর্তৃপক্ষ গঠন করে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এখনও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। কোনো কার্যালয় বা জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর সচিবালয়ে মাত্র দুটি সভা হয়েছে। বলা যায় সংস্থাটি আঁতুড়ঘরে আছে।
গাজীপুরকে চারটি জোনে ভাগ করে গাউকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এগুলো হলোÑ টঙ্গী ও পুবাইল নিয়ে জোন-১, গাছা ও জয়দেবপুর নিয়ে জোন-২, কাউলতিয়া ও বাসন নিয়ে জোন-৩ এবং কোনাবাড়ী-কাশিমপুর নিয়ে জোন-৪।