গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৩ ২৩:১৩ পিএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৩ ১১:৪৩ এএম
শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সংগৃহীত ফটো
গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩১ মে) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. আসাদুজ্জামান গাজীপুর মহানগরের দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার ইশায়াতুল কুরআন মাদ্রাসার (আবাসিক) শিক্ষক।
নিহত ছাত্র মো. সাব্বির রহমান কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার পাতারকান্দি এলাকার আবু বকরের ছেলে। দক্ষিণ ছায়াবিথী আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তানসহ থাকেন আবু বকর। বাবা দিনমজুর এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।
নিহতের বোন স্মৃতি আক্তার জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোসল ও খাবার খেতে সাব্বির বাসায় আসত। পরে আবার মাদ্রাসায় চলে যেত। রাতে সেখানেই থাকে। সকালে ও রাতে আমরা বাসা থেকে খাবার দিয়ে আসতাম। অন্যদিনের মতো মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তাকে মাদ্রাসায় খাবার দিয়ে বাসায় ফিরে আসি। আসার সময় সাব্বিরকে বেশ হাসিখুশি দেখে আসি। পরে দুপুরে খবর আসে সাব্বিরের সতীর্থ আলিফকেও ওই শিক্ষক সকালে বেশ মারধর করে। প্রতিবেশী আলিফের ভাগ্নে সানিও একই মাদ্রাসায় পড়ে। তারা সাব্বিরের মৃত্যুর খবর পায়।
স্মৃতি আক্তার বলেন, ‘অন্যদের মতো মামা-ভাগ্নেও সেদিন দুপুরে বাসায় গোসল ও খেতে যায়। বাসায় যাওয়ার সময় মাদ্রাসার শিক্ষকরা সাব্বিরের মৃত্যুর খবর কাউকে বলতে না করে দেন। কিন্তু সানি বিষয়টি তার মাকে বললে তিনি আমাদের জানান। পরে এক প্রতিবেশীকে নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রাসার কক্ষে সাব্বিরের লাশ গলায় গামছা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।’
মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, সাব্বির গলায় গামছা বেঁধে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।’
তখন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সদর থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান তার সহকর্মীদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে সাব্বিরের লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় সাব্বিরের বাবা আবু বকর বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেন।