সিলেট অফিস
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৩ ২১:৫৯ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৩ ২২:০৩ পিএম
সিএনজি ফিলিং স্টেশনে হামলার প্রতিবাদে নগরীতে ট্যাংক লরি নিয়ে মিছিল। প্রবা ফটো
সিলেটের শাহপরান থানা এলাকায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন পেট্রোল পাম্প, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ট্যাঙ্কলরি মালিক-শ্রমিকরা। বুধবার (৩১ মে) বেলা ১১ টায় ট্যাংঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তিন শতাধিক গাড়ি-ট্যাঙ্কলরি নিয়ে নগরীতে মিছিল করেছে। মিছিলটি নগরের দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন নেতৃবৃন্দ।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মালিক-শ্রমিকদের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসীদের শাস্তি নিশ্চিত, শাহপরাণ থানার ওসিকে প্রত্যাহার, ফিলিং স্টেশন ও ট্যাংকলরি থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা। দাবিগুলো না মানা হলে আগামী ৪ জুন (রবিবার) থেকে পেট্রোলপাম্প, সিএনজি স্টেশন, ট্যাঙ্কলরি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় ট্যাংঙ্কলরি মালিক শ্রমিক পরিষদের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী। তিনি জানান, গত ২৬ মে সকালে শাহপরান থানার সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পীরের বাজারে আর রহমান অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে একদল যুবক ‘ছাত্রলীগ পরিচয়ে’ হামলা চালায়। হামলার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমদের এ আন্দোলল।
জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমাদের দাবিগুলো না মানা হলে আগামী রবিবার সকাল ৬টা থেকে পেট্রোলপাম্প, সিএনজি স্টেশন, ট্যাঙ্কলরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
ফিলিং স্টেশনের মালিক মুজিবুর রহমান জানান, লাইন ভেঙে গ্যাস না দেওয়ায় ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত স্টেশনের নজেলম্যান রাজু ও বাদশার ওপর হামলা চালায়। তারা নিজেদের ‘ছাত্রলীগের কর্মী’ পরিচয় দিয়ে জোর করে সিরিয়াল ভেঙে গ্যাস নিতে চায়। মারধরের দৃশ্য এবং হামলাকারীদের চেহারা সিসিটিভির ফুটেজে রেকর্ড রয়েছে।
এ ঘটনার পর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে স্থানীয় শাহপরাণ থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তাৎক্ষণিক কোন ধরনের সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেন সিএনজি স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ গড়িমসি করে একদিন পর অভিযোগ গ্রহণ করেছে।’
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে শাহপরাণ থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ আমলে নিয়ে অভিযানে নামে। আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসলে আমাদের কিছু করার থাকেনা।’
জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সোহেল রেজা বলেন, অভিযোগ দেওয়ার সাথে সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। আর ধর্মঘটের আহ্বান করেছেন পাম্পের মালিকরা, এটা তাদের এসোসিয়েশনের বিষয়। ওসি প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দাবি যে কেউ করতে পারে।’