রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ২২:৫৪ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৩ ০০:০৩ এএম
আধিপত্য বিস্তারের জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ। প্রবা ফটো
আধিপত্য বিস্তারের জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিল্লাল নামের এক রেস্তোরাঁর বাবুর্চি গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ মে) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার তারাব পৌরসভার বরপা বাস স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ বিল্লালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, বিল্লালের কোমরে একটি গুলি লেগেছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত। ঘটনাটি রূপগঞ্জ পুলিশকে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বিকালে পৌরসভার বরপা বাস স্টেশন এলাকায় সিফাত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী প্রাইভেটকারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাইক নিয়ে সড়কে পড়ে যান। এ সময় সিফাত ও প্রাইভেটকার চালকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে প্রাইভেটকার চালকের পক্ষে তারাব পৌর যুবলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক বায়েজিদ সাউদ ও সিফাতের পক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজির আহমেদ রিয়াজের লোকজন বিতর্কে জড়ায়। এ সময় দুপক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের সময় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখন রেস্তোরাঁর বাবুর্চি বিল্লাল গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া ওই রেস্তোরাঁর কর্মী আফজাল, আশরাফুল, কামাল এবং রেস্তোরাঁর ম্যানেজার মাসুদসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ বিল্লালকে উদ্ধার করে ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠায়। বাকি আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
রেস্তোরাঁর মালিক মো. নাদিম সাউদ জানান, বিকালে রেস্তোরাঁর ভেতরে রান্নাঘরে কাজ করছিলেন বিল্লাল। তখন বেশ কয়েকজন যুবক দৌড়ে ভেতর ঢুকে খেতে বসা এক যুবককে মারধর শুরু করে। তখন ঐ যুবক তাদের হাত থেকে বাঁচতে বাবুর্চিখানার গেলে হামলাকারীরাও সেখানে যায়। একপর্যায়ে তাদেরই কারোর ছোড়া গুলিতে আহত হয় বাবুর্চি বিল্লাল।
এ বিষয়ে পৌর যুবলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক বায়েজিদ সাউদ বলেন, ‘সিফাতের বাইক শ্রমিকলীগ নেতা মোহাম্মদ আলীর প্রাইভেটকারে লেগে যায়। মোহাম্মদ আলী আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে এসে মিমাংসার চেষ্টা করি। এ সময় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজির আহমেদ রিয়াজের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। তখন রেস্তোরাঁর বাবুর্চি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তানজির আহমেদ রিয়াজের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি/তদন্ত আতাউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।