× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

২০ কিমিতে ১০ ওভারব্রিজ কাজে আসছে না একটিও

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১৬:৫৮ পিএম

কাছাকাছি ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় লাল নিশান টানিয়ে ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার হচ্ছেন শ্রমিকরা। সম্প্রতি কালিয়াকৈরের চন্দ্রায়। প্রবা ফটো

কাছাকাছি ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় লাল নিশান টানিয়ে ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার হচ্ছেন শ্রমিকরা। সম্প্রতি কালিয়াকৈরের চন্দ্রায়। প্রবা ফটো

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি থেকে কালিয়াকৈরের বোডঘর। ২০ কিলোমিটার এ সড়কে রয়েছে ১০টি ফুটওভার ব্রিজ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজগুলো না করায় কাজে আসছে না শিল্পকারখানা অধ্যুষিত এই এলাকার হাজারো শ্রমিকের। ফলে ঝুঁকি নিয়েই সড়ক বিভাজকের কাটা দিয়ে কর্মস্থালে যেতে হয় তাদের। অপরিকল্পিত এসব স্থাপনা নির্মাণে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তবে কিছু ব্রিজ সঠিক স্থানে হয়নি, এ কথা স্বীকার করে জায়গা সংকটকে দায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ।

একটি বহুজাতিক পোশাক তৈরির কারখানার শ্রমিক আলী আজম, আকরাম শেখ, সোলাইমান মোল্লাসহ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা শ্রমজীবী মানুষ ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হয়। জীবনের প্রতি মায়া তো আমাদেরও রয়েছে। কিন্তু কী করব? ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে হলে অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হয়। 

মধ্যাহ্নের বিরতিতে যে সময় পাই, তাতে কাছে ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় ইচ্ছে থাকলেও ব্যবহার করার উপায় থাকে না। তাই ঝুঁকি নিয়েই ছোট কাটা দিয়ে লাফিয়ে পার হয়ে কর্মস্থলে যেতে হয়। জেনেশুনে প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি। এরপরও সঠিক সময় কর্মস্থলে পৌঁছতে বিকল্প এ মারণফাঁদ ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছি।

সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশের তেলিরচালা ও মৌচাক এলাকায় ছোট-বড় ২০-২২টি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় লক্ষাধিক শ্রমিক প্রতিদিন সকাল-বিকাল সড়ক অতিক্রম করে কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে নেই কোনো ব্রিজ। প্রায় ২০০ মিটার পূর্বে কোনাবাড়ি কলেজ গেট এলাকায় থাকা ব্রিজ ব্যবহার করতে আগ্রহী নন কোনো শ্রমিক। ফলে লাল নিশানা দিয়ে চলন্ত যানবাহন থামিয়ে সড়ক অতিক্রম করেন শ্রমিকরা।

অপরদিকে সফিপুর দোকানপাড় ও গোয়ালবাথান জনবহুল এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও নির্মাণ করা হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। এলাকাটিতে নেই শিল্পকারখানা ও বাজার। ফলে ব্রিজটি সবসময় ফাঁকাই পড়ে থাকে। এমনকি স্থানীয়দের দাবি ব্রিজটি দিয়ে ২৪ ঘণ্টায়ও একজন পথচারীও যাতায়াত করে না। প্রায় একই দশা মহাসড়কের কালিয়াকৈর এলাকায় নির্মাণ করা দশটি ফুটওভার ব্রিজের।

জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্পেকটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত হোসেন বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করেছি। জয়দেবপুর থেকে বোডঘর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বিপুল পরিমাণে শিল্পকারখানা থাকায় দশটি ফুটওভার ব্রিজের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এই মহাসড়কটিতে পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদে চলাচলের জন্য চাহিদা অনুপাতে আরও বেশকিছু ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গার স্বল্পতার কারণে কিছু ফুটওভার ব্রিজ সঠিক স্থানে করা যায়নি। সড়ক বিভাজকের কাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনের বাধার কারণে কিছু স্থানে ফাঁকা রাখতে হয়। 

সালনা হাইওয়ে থানার ওসি মো, আতিকুর রহমান জানান, কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা সময় বাঁচাতে মহাসড়কের যেখানে সেখানে পারাপার হয়। এদের সচেতনতার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আর ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের উৎসাহ দিতে চাই। যাতে মহাসড়কে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা না ঘটে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা