লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১৫:১৫ পিএম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিবির বিলার নয়াপাড়ায় রাতের আঁধারে পাহার কেটে পুকুরে পরিণত করা হয়েছে। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। অভিযান ও জরিমানার পরও থামছে না পাহাড়খেকোদের তৎপরতা। উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিবির বিলার নয়াপাড়ায় রাতের আঁধারে একটি পাহাড় কেটে পুকুরে পরিণত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি পাহাড় কেটে মাটি সাবাড় করে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত ৫ এপ্রিল লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহজাহান অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটার দায়ে সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাকের ছেলে শহিদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন। জরিমানার ১৫ দিন পর প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতে শহিদুলের নেতৃত্বে চলছে পাহাড় কাটা।
গত রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, উঁচু থেকে গভীরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। দেখে মনে হবে না এটা পাহাড়। কেটে নেওয়া মাটির আনুমানিক মূল্য ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগে মাটিখেকোরা এক্সকাভেটর অন্যত্র রেখে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পাহাড় কাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড প্রায়ই অভিযান চালিয়ে অনেক জরিমানা করেন। এরপরও তারা একই কাজ করে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব বন্ধ করার জন্য যা সহযোগিতা দরকার আমি করে যাব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শহিদুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার প্রায় ইউনিয়নেই পাহাড় কাটা হচ্ছে। অভিযান চালানোর পর কয়েক দিন বন্ধ থাকলেও ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠে জড়িতরা। এদের কঠোর আইনের আওতায় আনা দরকার। নইলে বিলীন হয়ে যাবে এসব পাহাড়।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহজাহান জানান, পাহাড় কাটার সংবাদ শুনেছি। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।