মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৩ ২২:৩৯ পিএম
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। প্রবা ফটো
পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির নেতৃত্বে নৌ র্যালি হয়েছে। নদীভাঙন ঠেকাতে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায় সোমবার (২৯ মে) সকাল ১০টার দিকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত র্যালিটি পদ্মা সেতু ও মাওয়া সংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা প্রদক্ষিণ করে। তাতে নদীপারের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সংসদ সদস্য এমিলি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর পিলারের চারপাশে বালু জমে যেন ক্ষতি না হয় এজন্য কয়েকজনকে বালু কাটার অনুমতি দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখন শত শত ডাকাত-সন্ত্রাসী বালু কাটছে। এরা নদীর দুই পাড়কেই নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিয়েছে।’ এমিলি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই, বালুখেকোদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেন।’
পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলার পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের সীমানা, ১৮ নম্বর থেকে অন্য জেলার সীমানা। এর মধ্যে লোহজং উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে, অন্য জেলার প্রশাসনকেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য। কর্মসূচিতে উপস্তিত ছিলেন লৌহজং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক, ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাতারু মোশারফ হোসেন খান, জেলা পরিষদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মৃধা, লৌহজং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তপন প্রমুখ।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, লৌহজং সংলগ্ন পদ্মা নদীর আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন কয়েক কোটি ঘনফুট বালু অবৈজ্ঞানিক ও অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির অনুমতি থাকলেও সেই সুযোগে অবৈধ বালু কারবারিরা বালু উত্তোলনে নেমেছে। এতে ধারণার বাইরে গিয়ে নদীর গতিপথ বদলে কয়েকদিন পরপরই ভাঙন দেখা যাচ্ছে। বালু উত্তোলনের পেছনে প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে বলে দাবি তাদের।
গত কয়েক দশকে পদ্মা নদীর ভাটিতে লৌহজংয়ের খড়িয়া থেকে টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়েছে। গত বছর এপ্রিলে এই এলাকার ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশে ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা।