ইউএনওর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
লক্ষীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ১৮:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৮ মে ২০২৩ ১৮:৪৫ পিএম
কৃষি জমির মাটি কেটে আশ্রয়ণ প্রকল্প ভরাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। প্রবা ফটো
লক্ষীপুরের রামগতিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষি জমির মাটি কেটে আশ্রয়ণ প্রকল্প ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম শান্তুনু চৌধুরী ও সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান কাজলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কার্তিক চন্দ্র অধিকারী নামে এক ব্যক্তি।
রবিবার (২৮ মে) দুপুরে জেলা শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে কার্তিক চন্দ্র অধিকারী এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় কার্তিকের ভাই বিকাশ চন্দ্র অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে কার্তিক বলেন, জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর রইছা খাতুনদের কাছ থেকে কার্তিক চন্দ্র অধিকারীর দাদা কৃষ্ণ চন্দ্র অধিকারী রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর মৌজায় ১০ একর ৩৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এসএ খতিয়ানেও কৃষ্ণ চন্দ্রের নামেই জমিটি রেকর্ডভুক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি ওই জমির খাজনা পরিশোধ করেছেন। পরবর্তীতে ওয়ারিশ সূত্রে কৃষ্ণ চন্দ্রের ছেলে হরিহর অধিকারী ও ইন্দুভোষণ অধিকারী জমির মালিক হন। এরমধ্যে হরিহর ৪ একর ৬০ শতাংশ জমির মালিক হন। হরিহরের মৃত্যুর পর তার ৩ ছেলে কার্তিক, বিকাশ ও কানু লাল অধিকারী ওই জমির মালিক হন। এরমধ্যে ইন্দুভোষণের নামের কিছু জমি খাস খতিয়ানে চলে যায়। এ নিয়ে তিনি ২০২০ সালে ৮ নভেম্বর লক্ষীপুর জজ আদালতের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
এদিকে জমির মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনার বিচার চেয়ে কার্তিক অধিকারী চলতি বছরের ২ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মাহমুদের মাধ্যমে একটি রিট করেন। ২৫ জানুয়ারি বিচারক কেএম কামরুল কাদের ও মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চ ২ মাসের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য লক্ষীপুর জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন। কিন্তু ৪ মাসেও তিনি মীমাংসা করে দেননি। একই দাবিতে গত ১০ মে কার্তিক ফের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একাধিকবার আবেদন করলেও জেলা প্রশাসক কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে জানান কার্তিক ও তার ভাই বিকাশ চন্দ্র অধিকারী।
সংবাদ সম্মেলনে কার্তিক দাবি করেন, ২০২২ সালের মার্চে ইউএনও শান্তুনু চৌধুরী ও সাবেক সহকারী কমিশনার রবিউল হাসানের নির্দেশনায় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সানাউল্যা, চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাছির উদ্দিন, নারী সদস্য মনোয়ারা বেগমের স্বামী মামুন মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন তার ৭০ শতাংশ জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। কিন্তু ওই জমি খাস ছিল না। জমির মালিক কার্তিক ও তার দুই ভাই। জমিগুলো তারা বর্গাচাষীদের মাধ্যমে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
এদিকে ইউএনও শান্তুনু চৌধুরী বলেন, ‘সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। খাস জমি থেকে আমরা মাটি কেটে আশ্রয়ণ প্রকল্প ভরাট করেছি। আমরা মালিকানাধীন কারও জমির মাটি কাটিনি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।’