× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কেএনএফের ভয়ে থানচিতে আশ্রয় নিয়েছে ১১ বম পরিবার

বান্দরবান প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ১৭:১৬ পিএম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৩ ১৭:৩০ পিএম

প্রাণের ভয়ে থানচি সদরে আশ্রয় নিয়েছেন ১১টি বম পরিবারের ৩২ জন সদস্য। প্রবা ফটো

প্রাণের ভয়ে থানচি সদরে আশ্রয় নিয়েছেন ১১টি বম পরিবারের ৩২ জন সদস্য। প্রবা ফটো

বান্দরবানের রুমা-থানচি সীমান্তে বিছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সদস্যদের নির্যাতন ও হুমকির কারণে প্রাণের ভয়ে থানচি সদরে আশ্রয় নিয়েছেন ১১টি পরিবারের ৩২ জন সদস্য। তাদের ম‌ধ্যে ১০ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী ও ৯ শিশু রয়েছে।

রবিবার (২৮ মে) দুপুরে সীমান্তের বাকলাইপাড়ার এই পরিবারগুলো থানচি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ‌্যাল‌য়ে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেওয়া সবাই বম জনগোষ্ঠীর সদস্য।

বাকলাইপাড়ার পাড়াপ্রধান (কার্বারি) থংলিয়াত বম বলেন, ‘আমাদের পাড়ায় ৩৭টি পরিবার ছিল। কেএনএফের তাণ্ডবের কারণে সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের ৬ মাস আগেই ২৬টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। আমরা ১১টি পরিবার কোনো রকমে নিজ ভিটেমাটিতে ছিলাম। পুরুষরা দিনের বেলায় পাহাড়ে জুমঘরে পালিয়ে থাকতাম। রাতে এসে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আবার চলে যেতাম জুমে অথবা জঙ্গলে।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের মে মাস পর্যন্ত ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে অনাহারে-অর্ধহারে নির্ঘুম সময় পার করছিলাম। আমাদের কষ্টের কথা রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে শনিবার ভিটেমাটি ছেড়ে চলে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিস্থিতির কথা মুঠোফোনে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের সদরে আসার পরামর্শ দেন। এরপর আমরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে থানচিতে চলে এসেছি।’

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা একই পাড়ার রোলরেম বম বলেন, ‘আমাদের সবার পরিবারের গৃহপালিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, গয়াল, ঘরবাড়ি ফেলে জীবন বাঁচানোর জন্য থানচি সদরে আশ্রয় নিয়েছি। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এখনে রাখার জন্য ইউএনওর কাছে আবেদন করেছি।’

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা বাকলাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাওরামতং বম বলেন, ’গত বছরের অক্টোবরে এলাকার পরিস্থিতি খুব খারাপ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্কুলও বন্ধ আছে। ছাত্রছাত্রী কেউ নেই। খুব কষ্টে জীবনযাপন করতে হয়েছে আমাদের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো সময় বাড়িতে, কোনো সময় জঙ্গলে রাত কাটাতে হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনসুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ’নিরাপদ আশ্রয়ে আসা ১১টি পরিবার রুমা উপজেলার ৩ নং রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাকলাইপাড়ার বাসিন্দা। তারা সবাই রুমা উপজেলার বাসিন্দা হলেও মানবিক কারণে থানচি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আশ্রয় ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা এখানে আশ্রয়ে থাকতে পারবে।’

গত মার্চ ও এপ্রিলে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানের কারণে রুমা ও রোয়াংছড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল অনেক গ্রামবাসী।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা