× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনবল সংকটে নাজেহাল শজিমেকে বাড়ছে শুধু শয্যা

বগুড়া অফিস

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ১৬:২০ পিএম

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ। ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ। ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে অর্ধশত চিকিৎসকসহ ২২৬টি পদ ফাঁকা পড়ে আছে। আবার ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিনগুণ। এখানে সব সময় প্রায় দেড় হাজার রোগী থাকে। সীমিত লোকবল দিয়ে তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এমন নানামুখী সংকটে চলছে সেবাকেন্দ্রটি। সম্প্রতি এখানে জনবল ঘাটতি না মিটিয়ে শয্যা সংখ্যা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১ হাজার ২০০।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল না বাড়িয়ে কেবল শয্যা বাড়িয়ে কার্যত কোনো লাভ হবে না। বরং ভোগান্তি আরও বাড়বে।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, শয্যা বাড়ানো হলে রোগীরা মেঝের পরিবর্তে বিছানায় থাকার সুযোগ পাবেন। তাতে তাদের ভাগ্যে যথাযথ চিকিৎসা জুটবে না। বরং ভোগান্তি আরও বাড়বে। শয্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি বলে তিনি মতামত দেন।

প্রায় ৩১ বছর আগে ১৯৯২ সালে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ভবনে ‘শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন পাশের ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ওই কলেজটির টিচিং হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ২০০৬ সালে শহরতলির ছিলিমপুরে স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতাল করা হয়। তবে হাসপাতালটির অবস্থান উত্তরের কয়েকটি জেলা যেমন জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার কাছাকাছি হওয়ায় ওইসব জেলার বাসিন্দারা উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় ছুটে আসেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), নিউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএনট্রোলজি, কিডনি ও হেপাটোলজিসহ পর্যায়ক্রমে মোট ১৩টি নতুন বিভাগ চালু করা হলে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ওই হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ রোগী ভর্তি থাকে বলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানান।

সূত্র জানায়, দিন দিন রোগীর চাপ বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৭০০ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য ২০১৮ সালের মে মাসের মাঝামাঝিতে সাড়ে চারতলা হাসপাতাল ভবনকে সপ্তম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ শয্যার ওই হাসপাতালটিতে ১ হাজার ২০০ রোগী ভর্তির প্রশাসনিক অনুমোদনও দেওয়া হয়। তবে কাগজে-কলমে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলেও চিকিৎসক এবং নার্সসহ প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করা হয়নি। তবে সম্প্রসারিত ভবনের নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বগুড়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এএইচএম শাহরিয়ার জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সম্প্রসারিত ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সেখানে ১ হাজার ২০০ রোগী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। বরং আগের ৫০০ শয্যার জনবলেই ঘাটতি রয়েছে। ৫০০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসক, নার্স এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মোট ১ হাজার ৩৫৩টি পদের মধ্যে ২২৬টি শূন্য আছে। এর মধ্যে চিকিৎসকেরই ৪৪টি পদ ফাঁকা। এ ছাড়া নার্সের ৯টি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির আরও ১৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে। 

গত মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের চারতলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে ঢুকতেই সিঁড়ির পাশে মেঝেতে রোগী ও স্বজনদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শুয়ে-বসে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে কথা হয় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সংসারদীঘি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদের সঙ্গে। তিনি মেঝেতে শুয়ে থাকা ৭৮ বছর বয়সি বাবাকে দেখিয়ে বলেন, ‘সাত দিন হলো হাসপাতালে এসেছি। বিছানা পাইনি। এমনকি চিকিৎসকরাও ঠিকমতো দেখছেন না। শুনলাম এখানে রোগীর তুলনায় ডাক্তার অনেক কম।’ চারতলাতেও একই অবস্থা। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে আসা লিমন নামে এক যুবক বলেন, ‘আমি তিন দিন আগে আমার মাকে ভর্তি করিয়েছি। এখানে এত রোগী আছে যে, সারা দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা মেলে। বেশি রোগীর কারণে বাথরুম থেকে শুরু করে সব জায়গা এতটাই নোংরা হয়ে গেছে যে, সেগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’

চিকিৎসকরা বলছেন, যেহেতু হাসপাতালটিতে আইসিইউ, ক্যান্সারসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইউনিট চালু রয়েছে, সে কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হলে নতুন করে চিকিৎসকের আরও ৩২২টি, নার্সের ৭২৯টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ২৪০টি এবং চতুর্থ শ্রেণির আরও ৫৭৯টি পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তা না করায় অত্যধিক রোগী ভর্তি থাকার কারণে তাদের পক্ষে সব রোগীকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে দেখা সম্ভব হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, ‘প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী সামলাতে গিয়ে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। এটি দিনের পর দিন চলতে থাকলে আমরা নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ব।’ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য পদে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ শিগগির এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা