ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ১৩:১৩ পিএম
আপডেট : ২৮ মে ২০২৩ ১৫:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি
গত ২১ ডিসেম্বর ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মোবাইল ফোন হারিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মো. আশিকুর রহমান। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচ ইফরান উদ্দিন আহমেদের নামে নিবন্ধন করা সিমকার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২৫ মে) ইউএনও ইফরান উদ্দিন আহমেদের নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন আশিকুর রহমান। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউএনও নিজেই তার নামে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাদী আশুগঞ্জের সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দা আশিকুর রহমানের দাবি, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু শামার একটি ইটভাটার সামনে থেকে তার স্যামসাং ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোনসহ আরও কিছু জিনিস ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
বিষয়টি তদন্ত করেন আশুগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান। তদন্তে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটিতে বিজয়নগর উপজেলার ইউএনও এএইচ ইফরান উদ্দিন আহমেদের নামে নিবন্ধন করা সিমকার্ড ব্যবহারের তথ্য পায় পুলিশ।
আশিকুরের ভাষ্য, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মোবাইল ফোনটি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু না পেয়ে তিনি মামলা করেন।
তিনি বলেন, ‘ইউএনওর নাম আসার বিষয়টি আমিও নিশ্চিত হই। অফিস কর্মচারী ফয়সাল ফোনটি দেবে দেবে করে দেয়নি। উল্টো ফোনের কাগজপত্র দেওয়াসহ নানা কথা বলতে থাকেন। পরে আমি আদালতে মামলা করি। মামলায় ইউএনওকে আসামি করা হয়েছে।’
বাদী আরও বলেন, ‘মামলার পর থেকে বেশ চাপে আছি। মোবাইল ফোনটি থানা থেকে নিয়ে আসার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু এখন যেহেতু মামলা হয়েছে, আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির ফয়সালা হবে।’
এ বিষয়ে ইউএনও এএইচ ইফরান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার নামে নিবন্ধিত বাংলালিংকের একটি সিম অফিসের কর্মচারী জালালকে দিয়েছিলাম। সে এনআইডি কার্ড পাচ্ছিল না। তার নামে সিম নিবন্ধন করা যাচ্ছিল না বলে আমারটা দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে কিনে আনা একটি মোবাইল ফোনে সে সিমটি ব্যবহার করে। বিষয়টি যে এত দূর গড়াবে বুঝতে পারিনি।
ঘটনাটি ভবিষ্যতের জন্য একটা শিক্ষা হয়ে রইল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে আরও সতর্ক হতে হবে।’
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ওই ফোনে ব্যবহার হওয়া সিমটি ইউএনওর নামে। বাদী অভিযোগ করেছিলেন ফোন হারিয়েছে। এখন সেটি পেয়ে ফেরত দিতে চাচ্ছে। কিন্তু বাদীকে বলার পর তিনি সেটি নিচ্ছেন না।’
মামলার তদন্তভার পাওয়া আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মামলার কপি এখনো হাতে পাইনি। কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’