× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এমপি মোস্তাফিজের এটাই প্রথম না

এস এম রানা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৩ ১১:০৮ এএম

আপডেট : ২৪ মে ২০২৩ ১১:০৯ এএম

প্রধানমন্ত্রীকে ‘হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় একটি মিছিলে অস্ত্র হাতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। ফটো সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে ‘হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় একটি মিছিলে অস্ত্র হাতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। ফটো সংগৃহীত

রাজশাহীতে এক সমাবেশ থেকে স্থানীয় এক নেতার প্রধানমন্ত্রীকে ‘হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় আয়োজিত একটি মিছিলে অস্ত্র হাতে নেতৃত্ব দিয়ে আবার আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তবে এমপি মোস্তাফিজের এমন ‘দাপট’ এটাই প্রথম না।

নানা সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় থাকেন তিনি। নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম উল্লেখ করে গালমন্দ এবং নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের হত্যাচেষ্টায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ আছে এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।

অস্ত্র হাতে মিছিল করার বিষয়ে জানতে চেয়ে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী একেএম মুস্তাফিজুর রহমান রাসেল সংসদ সদস্যের পক্ষে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা তার বিবৃতিতে বলা হয়- ‘প্রকাশ্য জনসভায় যদি বিএনপি নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে কবরে পাঠানোর মতো বক্তব্য দিতে পারেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিতে পারেন, তবে আমি (এমপি মোস্তাফিজ) বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে অগ্নিসন্ত্রাসকারী বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে মিছিলে অংশ নিলে ক্ষতি কী। বিএনপি জামায়াতের নাশকতাকারীদের প্রতিরোধ করতে ভবিষ্যতেও জীবনবাজি রেখে মাঠে থাকতে পারলেই আমার রাজনীতির সার্থকতা।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য বৈধ অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছেন, নাকি অবৈধ বা খেলনা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছেন, সেই বিষয়ে এখনও আমি কিছু জানি না। এ নিয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে আমি আলাপ করব। তবে জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সদস্যরা এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছেন।’ 

বৈধ অস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোটে ইফতেখার সাইমুম চৌধুরী বলেন, ‘অস্ত্র নীতিমালায় বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনীর নির্দেশনা দেওয়া আছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে একজন গানম্যান থাকেন। এর বাইরে মিছিলে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে। এরপরও সংসদ সদস্য নিজের অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। এটা দৃষ্টিকটু এবং অশোভনীয়।’ 

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি

দুই দফা নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অপমান-অপদস্থ করার অভিযোগ তুলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়েও বিতর্কিত বক্তব্য দেন তিনি। অভিযোগ আছে, ২০১৮ সালে পটিয়ায় এক জনসভায় মুক্তিযুদ্ধে তিন লাখ শহীদ হয়েছে বলে সাত মিনিট বক্তব্য রাখেন মোস্তাফিজ, যা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সংক্ষুব্ধ হন।

গত ১৩ মে বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধারা। বীর মুক্তিযোদ্ধা অসিত সেনের সভাপতিত্ব সভায় প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের মৌলভী ছৈয়দের (বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদ করতে গিয়ে হত্যার শিকার) ভাই মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলীর মৃত্যুর পর যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি। আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছিলাম, সেখানে হামলা চালানো হয়েছিল। আমাদের আন্দোলনের বিরোধিতা করে সংসদ সদস্য বলেছেন, “আশরাফ আলী মুক্তিযোদ্ধা নয়, বাঁশখালীতে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।” এখনও সংসদ সদস্য তার জায়গায় অটল আছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের দিন। সেদিন বলা হয়েছে, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা কি না সেটি কোরআন শরীফ ধরে বলতে হবে, যে কারণে আমরা সংবর্ধনা নিতে সেখানে যাইনি।’ 

ওবায়দুল কাদেরকে গালাগালের ভিডিও ভাইরাল

২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর গালাগালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে গালাগাল করেন মোস্তাফিজ। ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান একটি গাড়ির সামনের আসনে বসে কিছু আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে গালাগাল করছেন।

ভিডিওতে এমপি মোস্তাফিজ চট্টগ্রামের ভাষায় বলছেন, ‘আনোয়ারায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর এক জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বাবু মিয়া না হলে শেখ রেহানা লন্ডনে বসবাস করতে পারত না, শেখ হাসিনা রাজনীতি করতে পারত না। জাবেদ তুমি এগিয়ে চল।’

বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জন্য অপমানজনক দাবি করে মোস্তাফিজ আরও বলেন, বিষয়টি সংসদে তিনি নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কানে দিয়েছেন এবং নেত্রীকে নাকি বলেছেন আর একবার বললে তিনি ওবায়দুল কাদেরের কলার ধরে ফেলবেন। নেত্রী এ সময় তাকে মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেন।

এমপি মোস্তাফিজ ভিডিওতে আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের নাকি তাকে বলেছেন, আপনি কী শুরু করেছেন, আপনাকে মনোনয়ন দেব না। তখন মোস্তাফিজ পাল্টা বলেন, আমি আপনার কাছে মনোনয়ন চাইছি নাকি। মনোনয়ন না পেলে পাব না, তবুও আপনাকে ছাড়ব না। ভিডিওতে ওবায়দুল কাদেরের চরিত্র নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায় এমপি মোস্তাফিজুরকে।

প্রতিপক্ষ মনোনয়নপ্রত্যাশীকে হত্যাচেষ্টায় মদদ

প্রয়াত নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর বিকালে বাঁশখালী পৌর সদরের অদূরে সরল ইউনিয়নের পাইরাং এলাকায় আওয়ামী লীগের দুপক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ২৩ জন আহত হন। সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল্লাহ কবির লিটনের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। 

ওই ঘটনায় লিটনের অনুসারী আনিসুল হক বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্যের চাচা ও ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরী ও সংসদ সদস্যের পিএস ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলামসহ অন্যদের আসামি করা হয়। লিটন দাবি করেছিলেন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর মদদেই তার অনুসারীদের ওপর এই হামলা হয়। 

নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পছন্দের নির্বাচনী কর্মকর্তা না দেওয়ায় ২০১৬ সালের ১ জুন দুপুরে জাহিদুল ইসলাম নামে এক নির্বাচনী কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মারধর করেন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এই ঘটনায় এমপি মোস্তাফিজুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন ওই কর্মকর্তা। মামলার অন্য দুই আসামি ছিলেন সংসদ সদস্যের তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী বাহারছড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজুল ইসলাম এবং বাঁশখালীর ওলামা লীগ সভাপতি মাওলানা আকতার হোসাইন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা