মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৩ ১৩:২৮ পিএম
একই সাথে নাগলিঙ্গম ফুল ও ফল
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা-গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) চত্বরে শোভা পাচ্ছে শতাধিক জাতের ঔষধি, ফল ও ফুলের গাছ। এসব গাছের মধ্যে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘নাগলিঙ্গম’।
বিটিআরআই কার্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশের পুকুরের দক্ষিণ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সুউচ্চ নাগলিঙ্গম গাছটিতে যখন ফুল ফোটে, তখন এর সৌরভ মাতিয়ে রাখে চারপাশ। শ্রীমঙ্গলে আসা পর্যটকদের অনেকেই তাদের মোবাইলে অপার সৌন্দর্যের নাগলিঙ্গমের সঙ্গে ছবি তুলে নেন।
নাগলিঙ্গম দুর্লভ গাছ। এর ফুল বেশ বড় ও আকর্ষণীয়। গাঢ় গোলাপি, সঙ্গে হালকা হলুদ রঙের মিশ্রণ আছে ফুলে। এর পাপড়ি ছয়টি। ফুলের পরাগচক্র দেখতে অনেকটা সাপের ফণার মতো।
ধারণা করা হয়, এ কারণেই এ ফুলের নাম নাগলিঙ্গম। সাধারণত বেশিরভাগ উদ্ভিদের ফুল শাখায় ফুটলেও নাগলিঙ্গমের ফুল ফোটে গাছের মধ্য গুঁড়িতে। গুঁড়ি ফুঁড়ে বের হয় ছড়া। তারপর শত শত ফুল। ফুলভর্তি গাছ দেখলে মনে হবে কেউ বুঝি গাছের কাণ্ড ছিদ্র করে ফুলগুলোকে গেঁথে দিয়েছেন।
বিটিআরআইয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. ইসমাইল হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ চা-বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন গাছটির চারা রোপণ করেন। তিন দশকে এটি বিশালাকৃতি ধারণ করেছে। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এ গাছে ফুল ফোটে। ফুল শুকিয়ে গেলে তাতে বাদামি-খয়েরি রঙের গোলাকৃতি ফল হয়। দেশে এখন গাছটির তেমন দেখা মেলে না। গাছে যখন একসঙ্গে ফুল ও ফল থাকে, তখন এর সৌন্দর্যের আভায় বিমোহিত হন সবাই।
তিনি আরও বলেন, নাগলিঙ্গম গাছ সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। গুচ্ছ পাতাগুলো লম্বা, ৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিবেশ-প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ-বিষয়ক গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নাগলিঙ্গম সুউচ্চ চিরসবুজ গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis বা কোরোপিটা গুয়েনেন্সিস।
ঢাকায় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ছাড়াও রমনা উদ্যান, কার্জন হল, বলধা গার্ডেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট ও হবিগঞ্জে এ গাছ দেখতে পাওয়া যায়।
নাগলিঙ্গম গাছটি ভেষজ। বেড়ে ওঠার জন্য যে পরিবেশ দরকার, বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রাকৃতিক বনে সে পরিবেশ এখন আর নেই। দেশের প্রাকৃতিক বনে সুউচ্চ গাছপালা নেই বললেই চলে। আর পাশাপাশি সুউচ্চ গাছপালা না থাকলে নাগলিঙ্গম বেড়ে উঠতে বা টিকে থাকতে পারে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতীয় উপমহাদেশে নাগলিঙ্গম গাছটি হাজার বছর ধরে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শিব ও সর্প পূজায় নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করেন। দেশে এ গাছের নাম নাগলিঙ্গম হলেও ভারতে একে ‘শিব কামান’ নামে ডাকা হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও গাছটির যথেষ্ট কদর রয়েছে। মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডের বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে গাছটি রয়েছে প্রচুর। এর ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করা হয় বলে জানান গবেষকরা। এর বাকলের নির্যাস ব্যবহার করা হয় অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে।