বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৩ ২০:৪৬ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৩ ২১:০৩ পিএম
ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরছে বরগুনার সমুদ্রগামী জেলেরা। প্রবা ফটো
মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯ মে) মধ্যরাত থেকে ৬৫ দিনের জন্য দেশের সমুদ্রসীমায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। ইতোমধ্যে জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরছে বরগুনার সমুদ্রগামী জেলেরা। কিছু ট্রলার এখনও ফেরেনি। তবে তারা তীরের দিকে আসছে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বরগুনার ২৭ হাজার ২৭৭ জন জেলেকে ১ হাজার ৫২৬ টন চাল সহায়তা দেওয়া হবে। নিবন্ধিত প্রতি জেলে পাবেন ৮৬ কেজি করে চাল। এ সময় যাতে অসাধু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমুদ্রে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও প্রশাসন।
বরগুনা উপকূলের জেলেরা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারের এমন নির্দেশনা মেনে চলবেন তারা। তবে এই দুই মাসেরও বেশি সময় সাগরে না যাওয়ায় আর্থিক অনটনে ভুগতে হবে তাদের। তা ছাড়া চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তারা।
মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ’সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকশ ট্রলার ইতোমধ্যে তীরে ফিরে নোঙর করেছে। বরগুনা উপকূলের দেড় লাখ মানুষ জেলে পেশায় নিয়োজিত। দুঃখের বিষয় সরকারি তালিকায় জেলেসংখ্যা ৩৭ হাজার ৭৪ জন। বাকি এক লাখেরও বেশি জেলে সহায়তা পান না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ’ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুম থাকায় আজ মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদী মোহনায় মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২৩ জুলাই। এ সময় দেশের সামুদ্রিক জলসীমানায় সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। এ সময় সাগরে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২০১৯ সাল থেকে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে ২০১৫ সাল থেকে কেবল বড় ট্রলারগুলোর জন্যই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।