রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৩ ১৪:১৫ পিএম
পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে দৌলতদিয়ায় ৭নং ফেরিঘাট এলাকায়। প্রবা ফটো
চার বছরেও শুরু হয়নি দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ। এর মধ্যে ব্যয় বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। ২০২০ সালে একনেকে পাস হওয়া ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকার এ প্রকল্প বর্তমানে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হওয়ায় পদ্মার গর্ভে প্রতি বছর বিলীন হচ্ছে ফেরি ও লঞ্চঘাটসহ শত শত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সম্প্রতি নদীতে পানি বাড়ায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে ৬ ও ৭নং ফেরিঘাট এলাকায়।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ একনেকে পাস হয়। এর আওতায় দৌলতদিয়া অংশে ছয় কিলোমিটার এবং পাটুরিয়া অংশে দুই কিলোমিটারসহ মোট আট কিলোমিটার নদীরক্ষা বাঁধের পাশাপাশি পুরো ঘাট আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজই শুরু করতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ। উল্টো প্রকল্পটির ব্যয় আরেক দফা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে তিন হাজার কোটি টাকায়।
প্রকল্প পরিচালক মো. তারিকুল হাসান বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে। এজন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ডিপিপি সংশোধন করা হবে। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করা হলে একনেকে অনুমোদনের পর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আশা করছি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জনগণ সুফল পাবেন।
এদিকে, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফের ভাঙন শুরু হয়েছে ৬ ও ৭ নং ঘাট এলাকায়। ফলে হুমকিতে পড়েছে শত শত স্থাপনা। এর আগে গত বছর ৫নং ফেরিঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। আজও ওই ঘাটটি স্থাপন করতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত চার বছরে ১ ও ২নং ফেরিঘাট এবং লঞ্চঘাট নদীতে বিলীন হয়। তবে লঞ্চঘাটটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হলেও ১ ও ২ নং ফেরিঘাট আজও চালু হয়নি। ভাঙনে বিলীন হওয়া তিনটি ফেরিঘাট গত চার বছর পেরিয়ে গেলেও সচল করতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়া গত কয়েক বছরের ভাঙনে এখন রাস্তার ধারে এসে ঠেকেছে পদ্মা। ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ভাঙনে ক্ষতি গত পাঁচ বছরে। এতে এখানকার প্রায় হাজারো পরিবার, শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বেশকিছু স্থাপনাও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হওয়া পরিবারগুলো এখন অন্যত্র মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ভাঙন রোধে দ্রুত প্রকল্পের কাজটি শুরু করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
দৌলতদিয়ার ৭নং ফেরিঘাট এলাকায় বসবাসরত ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ঘাট বাঁধার কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনও তা শুরু না করায় আবারও ভাঙন ধরেছে। প্রতি বছর ভাঙতে ভাঙতে এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আরেক ভুক্তভোগী মোছা. আকলিমা বেগমও আক্ষেপের সুরে বলেন, নদীশাসন না করার কারণে আমাদের এখন আর বাঁচার রাস্তা নেই। একমাত্র নদীশাসন ছাড়া আমাদের আর কোনো কূল নেই।
একই এলাকার বাসিন্দা শরিফ শেখ, শাহজাহান তফাদার, খবিরউদ্দিনসহ অনেকেই ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে বাস করছেন জানিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে কাজ না করায় প্রতি বছরই ভাঙনের কবলে পড়ে আমরা নিঃস্ব হচ্ছি। শুকনা মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে বালুর বস্তা ফেললে তা কোনো কাজে আসে না। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত ঘাট রক্ষায় কাজ শুরু করার অনুরোধ জানান তারা।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ গত মার্চ মাসে ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের ডিজাইন দিয়েছে। সে মোতাবেক একটি ইস্টিমেট করে বিআইডব্লিউটিএর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ইস্টিমেট অনুযায়ী টিএ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে বাস্তবায়নের কাজ অগ্রসর করা হবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধানে ৩০ একর জমির মধ্যে ঘাট আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষাকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষের পথে। অধিগ্রহণকাজ শেষ হলে আশা করছি অবকাঠামোগত কাজ শিগগিরই শুরু হবে।