কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩ ২২:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৩ ১১:৩৯ এএম
বকেয়া মজুরির দাবিতে ধর্মঘট করছেন চা শ্রমিকরা। প্রবা ফটো
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ন্যাশনাল টি কোম্পানির পাত্রখোলা চা বাগানে সাপ্তাহিক মজুরি থেকে কেটে রাখা বকেয়া টাকার দাবিতে ধর্মঘট করেছেন শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সকাল থেকে তারা কাজে যোগ না দিয়ে বাগানের প্রধান ফটক এলাকায় জড়ো হয়ে ধর্মঘট শুরু করেন। দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীকাল শুক্রবার থেকে লাগাতার ধর্মঘট করা হবে বলেও জানান তারা।
শ্রমিকরা জানান, চা-বাগান কর্তৃপক্ষ বেশ কিছুদিন ধরে ন্যায্য মজুরি দিচ্ছে না। কিছুদিন আগে সাপ্তাহিক মজুরি থেকে ১০০ টাকা করে কেটে রাখে। তখন শ্রমিকদের প্রতিবাদের মুখে চলতি মাসের ১৫ তারিখে সেই টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু গত বুধবার টাকা চাইতে গেলে কর্তৃপক্ষ টাকা না দিয়ে উল্টা বুধবারের সাপ্তাহিক হাজিরা থেকে দেড়শ টাকা করে কেটে রাখে। শ্রমিকরা পুরো টাকা দাবি করলেও কর্তৃপক্ষ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে তারা ধর্মঘট শুরু করেছেন। শুধু মজুরিই নয়, শ্রমিক ইউনিয়নের জন্য কেটে রাখা চাঁদাও ইউনিয়নে জমা না করার অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।
পাত্রখোলা চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য কানাই অলমিক বলেন, ‘সকাল থেকে চা-বাগানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বাগানের ফটকে অবস্থান করেন। বাগান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করতে চাইলেও শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।’
পাত্রখোলা চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী শিপন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে পাত্রখোলা চা-বাগানে শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সমস্যা চলছে। বৃহস্পতিবার সারা দিন চা শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরিসহ নানা দাবিতে ধর্মঘট করেছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ এর আগেও বকেয়া মজুরি পরিশোধের কথা বলে শ্রমিকদের দেওয়া কথা রাখেনি। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে একঘেয়েমি মনোভাব প্রকাশ করে আসছে।’
পাত্রখোলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশের বাইরে থাকায় বাগানের চেক সাইন করা যায়নি। কিন্তু চা শ্রমিকরা তা বুঝতে চাচ্ছেন না। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বকেয়া মজুরি দেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা টাকা বা কোনো আশ্বাস পাননি। তাই শুক্রবার থেকে তারা লাগাতার ধর্মঘট শুরু করবে।