নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩ ১৮:১৮ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৩ ১৯:০৮ পিএম
বাদ জোহর বাড়ির সামনে মাছুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
বান্দরবানের রুমায় সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর সৈনিক আলতাফ হোসেন মাছুমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নোয়াখালীতে দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম সিএমএইচ থেকে লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যানে তার মরদেহ নোয়াখালীর সদর উপজেলার পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের বাড়ি আনা হয়। এ সময় তার মরদেহ একনজর দেখতে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের ঢল নামে।
বাদ জোহর বাড়ির সামনে মাছুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শত শত মানুষ জানাজায় অংশ নেন। জানাজার শুরুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতের স্মরণার্থে সশস্ত্র সালাম প্রদর্শন এবং জানাজা শেষে ২৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
এরপর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। মরদেহ দাফন ও দোয়া শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করেন সেনাসদস্যরা।
এ ছাড়া নিহতের পরিবারকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নিহত সৈনিক আলতাফ হোসেন মাছুম নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, মাছুমের বাবা আবুল কাশেম স্থানীয় রেলগেট এলাকায় ডেকোরেশনের ব্যবসা করতেন। ২০১৭ সালে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। সে বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন মাছুম। বাবার মৃত্যুর পর থেকে পরিবারের জীবিকা উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন মাছুম। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মাছুম বড় ছিলেন। সবশেষ রমজানের ঈদে ছুটিতে বাড়িতে যান মাছুম। ছুটি শেষে ২৬ এপ্রিল বাড়ি থেকে চাকরির উদ্দেশ্যে চলে যান তিনি। মা ও বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হতো তার। মারা যাওয়ার তিন দিন আগে শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গে কথা হয় মাছুমের।
মাছুমের বড় মামা মো. জহির উদ্দিন শাহিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতির মৃত্যুর পর ভাগ্নে মাছুম তার সংসারের হাল ধরেছে। আজ দেশের টানে সেও চলে গেল। আমার বোন-ভাগ্নি একা হয়ে গেল। তার সঙ্গে আমি হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে প্রতিদিন কথা বলতাম। মাছুম সব সময় আমার ভয়েস মেসেজের রিপ্লাই দিত। আমার শেষ ভয়েসের রিপ্লাই আর দেয়নি। পরে আমি আমার এক খালাত ভাইয়ের মাধ্যমে প্রথম তার মৃত্যুর সংবাদ পাই।’
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহিন বলেন, ‘দেশের জন্য মাছুমের এই আত্মত্যাগ শহিদি মৃত্যু। আমি চাই মাছুমের পরিবারের পাশে এগিয়ে আসবে সরকার। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।’
মাছুমের জানাজায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের ক্যাপ্টেন সাদিক মাহমুদ, বান্দরবান জেলার রুমা ক্যান্টনমেন্টের ২৮ বীর ইউনিটের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম, নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আলম সিদ্দিকী রাজুসহ সহস্রাধিক স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ মে) বান্দরবানের রুমায় সেনাবাহিনীর একটি টহল টিমের ওপর কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) সন্ত্রাসীদের চালানো হামলায় সেনাবাহিনীর দুজন সৈনিক নিহত এবং দুই অফিসার আহত হন। বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবানের রুমা উপজেলার সুংসুংপাড়া সেনা ক্যাম্পের জারুলছড়িপাড়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আস্তানার খবর পায় সেনাবাহিনী। খবর পেয়ে সুংসুংপাড়া আর্মি ক্যাম্প থেকে মেজর মনোয়ারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল মঙ্গলবার সেখানে গমনের উদ্দেশে যাত্রা করে। টহল দলটি জারুলছড়িপাড়া-সংলগ্ন পানির ছড়ার কাছাকাছি পৌঁছলে বেলা ২টার দিকে কেএনএ সন্ত্রাসীদের ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ ও অতর্কিত গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। এতে দুজন অফিসার নিহত ও দুজন সৈনিক আহত হন।